অবশেষে ‘জয়’ হলো বখাটে নজমুলেরই ! মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেরেই গেলো অসহায় কিশোরী রিমা

কিশোরী সারা দেশ : বৃহস্পতিবার কোটচাঁদপুর উপজেলা ফাদিলপুর গ্রামে এক কিশোরীকে অপহরণের পর বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জোর করে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলো এলাকার বখাটে নাজমুল হোসেন।

বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রিমাকে মুমূর্ষু অবস্থায় সেদিনই কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি রিমাকে উন্নত চিকিৎসায় যশোর ২৫০ বেড হাসপাতালে নেয়ার জন্য ডাক্তাররা পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে সেখানে নিয়ে যেতে পারছিলোনা তার হতদরিদ্র পিতা। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত কোটচাঁদপুর হাসপাতালেই রিমা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অসহায় কিশোরী। পরে শনিবার সকালে নিয়ে যাওয়া হয় যশোর ২৫০ বেড হাসপাতালে। কিন্তু শেষ অবধি মৃত্যুর কাছে হার মানে কিশোরী।

এ ঘটনায় থানায় ৫ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। পুলিশ ২ মহিলাকে আটকও করেছে। বখাটে নাজমুল ঘটনার দিন থেকে পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ । রিমা উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের রিপন হোসেনের মেয়ে ও আসাননগর-কুল্লাগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। বখাটে নাজমুল শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে ।

রিমার দাদা শুকুর আলী জানান, কোটচাদপুর উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের মৃত সিরাজ বিশ্বাসের নাতি ছেলে ভবঘুরে বখাটে নাজমুল হোসেন (১৮) তার ছেলের মেয়ে রিমা ওরফে রিমাকে প্রেমের প্রস্তাবে উত্ত্যাক্ত করতো । এ ঘটনায় তিনি এবং রিমার বাবা আসাননগর-কুল্লাগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছেও দুইবার অভিযোগ দিয়েছে। স্কুলে যাবার সময় রিপনাকে বখাটে নাজমুল বিভিন্ন ভাবে উত্ত্যক্ত করতো হত্যার হুমকি দিতো। বুধবার রাতেও রিমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নাজমুল প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং উত্ত্যক্ত করে। বিষয়টি ও রাতে রিমা তার পরিবারকে জানায়।

এর আগে শুক্রবার কিশোরীর এক ফুফু সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানিয়েছিলেন , ফাদিলপুর গ্রামের মৃত সিরাজ বিশ্বাসের নাতিছেলে নাজমুল হোসেন (১৮)-এর বাড়ী শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে হলেও সে নানা বাড়ি ফাদিলপুর থাকে। ছেলেটি ভবঘুরে বখাটে প্রকৃতির। সে প্রায় তার ভাইজিকে উত্তক্ত করতো।

হঠাৎ বুধবার রাত ৮টার দিকে নাজমুল ও তার বন্ধু আলমগীর হোসেন বাড়ির পাশে একা পেয়ে কিশোরীকে অপহরণ করে ওই গ্রামের একটি কাঁঠাল বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে নাজমুলকে বিয়ে করতে বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখায়।
কোন কিছুতেই রিমা রাজি না হওয়াতে রাত ১টার দিকে বাড়ির পাশে তারা রেখে আসে। এ দিকে স্বজনরা তাকে খুজতে থাকে এক পর্যায়ে সে বাড়িতে যেয়ে ঘটনাটি খুলে বলে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়।

ফুফুর অভিযোগ, এ ঘটনার পরে বৃহস্পতিবার দুপুরের কিশোরীকে তার আরেক ফুফুর ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নাজমুল ও আলমগীর জোর করে কীটনাশক মুখের মধ্যে ঢেলে দিয়ে চলে যায়। বিষক্রিয়ায় সে ছটফট করতে থাকলে গ্রামেই পল্লী চিকিৎসক দিয়ে প্রথমে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কোটচাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানা ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা শুক্রবার বলেছিলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে শোনার পরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাজমুলের খালা রেশমা খাতুনকে থানায় আনা হয়েছে।

ওই গ্রামের ইউপি মেম্বার আকবর মোল্লা জানান, আমি আজ দুইদিন ঢাকাতে রয়েছি , তবে আমি শুনেছি নাজমুল নামে একটি ছেলে রিমাকে প্রতি নিয়ত বিরক্ত করতো। তবে আমাকে অপহরণের বিষয়টি রিমার পিতা জানিয়েছে। এর বেশি কিছু আমি জানিনা। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ মারমুখি অবস্থানে রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

Post Author: shadhinkantho

Leave a Reply