আমরা কি বলেছি খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠাব?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আমরা কি বলেছি খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠাব? আমরা তো তা বলিনি। আদালত কি আদেশ দেন, তা তো দেখবেন। আমাদের এমপি রানা, বদি জেলে আছেন। দুজন মন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে দুদকের মামলায় আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। আমরা কি সেখানে হস্তক্ষেপ করেছি? বিএনপি নেতারাই তো রায় সাজাচ্ছেন। কিন্তু তিনি (খালেদা জিয়া) সাজা না-ও তো পেতে পারেন। এটা তো আদালতের ব্যাপার।’

আজ শনিবার সন্ধ্যায় নাটোর কানাইখালি পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত পথসভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নাটোর-৪ আসনের সাংসদ আবদুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে আরও বলেন, ‘ইলেকশনে আসবেন না! বোমাবাজি করে নির্বাচন ঠেকাবেন! জনগণ আপনাদের ঠেকাবে।’
খালেদা জিয়াকে মামলার রায়ের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে—বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের ভাবটা এমন যে ঠাকুরঘরে কে রে, আমি তো কলা খাই না!’ তিনি বিএনপিকে মেরুদণ্ডহীন দল আখ্যায়িত করে বলেন, ‘দলের কমিটিতে পাঁচ শতাধিক নেতা। অথচ একটা মিছিল করার সাহস পায় না। এরা আবার আন্দোলন কী করবে? তারা এ বছর না সে বছর, এ ঈদের পর না ও ঈদের পর, করতে করতে আট বছর পার করেছে। তাদের আন্দোলন তো চোখে পড়েনি। শুধু একটা আন্দোলন দেখা গেছে, তা হচ্ছে বোমা আন্দোলন। এবার তা করে পার পাওয়া যাবে না। জনগণ তাদের ঠেকাবে।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এখন বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। তারা প্রতিদিন দেশের মানুষের কাছে, বিদেশিদের কাছে শুধু নালিশ করে যাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘরে বসে থেকে মরা গঙ্গায় জল আসবে না। মানুষের মন জয় করতে হবে।’
ওবায়দুল কাদের উপস্থিত নেতা-কর্মীদের বলেন, ‘বিশেষণ কম দেবেন। কাজ দিয়ে মানুষকে খুশি করবেন। নিজেদের নেতা না ভেবে কর্মী ভাববেন। আমরা সবাই নেতা না হয়ে কর্মী হলে শেখ হাসিনার এজেন্ডা আরও দ্রুত বাস্তবায়ন হতো।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সভার আয়োজকদের সমালোচনা করে বলেন, ‘পথ বন্ধ করে এখানে (নাটোর-রাজশাহী সড়ক) পথসভা করা ঠিক হয়নি। আমি তো শুনেছিলাম এখানে জনসভা হবে। কিন্তু এসে দেখি পথ বন্ধ করে পথসভা হচ্ছে।’ তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য। রাস্তা বন্ধ করে নারী, শিশু ও রোগীদের দুর্ভোগে ফেলে তাদের কষ্ট দেওয়াটা আমাদের কাজ না।’ তিনি আয়োজকদের উদ্দেশ করে বলেন, মানুষের দুর্ভোগের দায় কে নেবে? ভবিষ্যতে এটা না করার জন্য তিনি আয়োজকদের পরামর্শ দেন।
তিনি সভাস্থলে তাঁর ছবির ছড়াছড়ি দেখে অসন্তোষ জানান। তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকায় এত ছবি নাই। আমি আমার এলাকায় সংবর্ধনা নিইনি। সংবর্ধনা নিয়ে কী হবে? সংবর্ধনা নিয়ে কী লাভ?’ তিনি আরও বলেন, ‘ছবি মুছে যাবে। মানুষের অন্তর জয় করে সেখানে জায়গা করে নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ, নাটোর-১ আসনের সাংসদ মো. আবুল কালাম এবং নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাটোর-২ আসনের সাংসদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ

Post Author: Pritom Sagor

Leave a Reply