‘আমি মেধাবী না হলেও মনোযোগী ছিলাম’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা অমিত চাকমা বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। আমার কর্মজীবনে সফলতার কারণ, আমি মেধাবী না হলেও মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করেছি।’

আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠান হয়। অমিত চাকমা কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিওর উপাচার্য। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম প্রেসিডেন্ট। একজন রসায়ন প্রকৌশলী হিসেবে বিশ্বব্যাপী সুনাম তাঁর। সমাবর্তনে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি দেওয়া হয়।

সমাবর্তন বক্তা করায় অমিত চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কীভাবে সফল হবেন, তার নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। তবে সর্বস্তরে সফল নেতাদের তিনটি বৈশিষ্ট্য ছিল। এগুলো হলো যোগ্যতা, কর্মনিষ্ঠা ও চারিত্রিক গুণ। নিজের দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে এসব গুণ অর্জন করতে হবে। ভালো ও মন্দের বিচার করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। নীতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সমাবর্তনকে শেখার জগতের সমাপ্তি নয়, বরং একটি মাইলফলক বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এই ডিগ্রি ও মেধাকে যেভাবে কাজে লাগাবেন, আপনার জীবন সেভাবেই চলবে। যিনি যত জ্ঞান অর্জন করবেন, তাঁর ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা তত বেশি থাকবে। কিন্তু হয়েছে কী?’

সমাবর্তনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটা শিক্ষাযাত্রার সমাপ্তি নয়। একটি মাইলফলক মাত্র। শিক্ষার আলো দিয়ে অজ্ঞানতার অন্ধকার মুছে ফেলতে হবে। প্যারাস্যুট যেভাবে খুলতে হয়, মনের দরজা খুলে দিতে হবে। নিজের ক্ষমতাকে সৎ কাজে ব্যবহার করতে হবে। যত জ্ঞান অর্জিত হবে, তত ভালো-মন্দের যাচাই ক্ষমতা বাড়বে।

অমিত চাকমা বলেন, ‘নীতির ওপর যত বেশি জীবন গড়তে পারবেন, জীবনে তত ভালো করবেন। সদা সত্য কথা বলিবে—এই একটা নীতিবাক্য দিয়ে শুরু করলেও হবে। অন্যায় যে করে, অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে—এ নীতি মেনে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে দেওয়া যাবে না। আর যদি কেউ আপনার পথের সঙ্গী না হয়, তবে মেনে চলুন—যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে।’

সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়ার আগে অমিত চাকমার যে সাইটেশন পাঠ করা হয়, তা থেকে জানা যায়, অমিত চাকমার জন্ম রাঙামাটিতে, ১৯৫৯ সালে। তিনি বাংলাদেশে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষে আলজেরীয় সরকারের বৃত্তি নিয়ে পড়তে যান। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে রসায়ন প্রকৌশল বিষয়ে এমএএসসি এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্নাতকদের ‘মানবতার আশা’ হিসেবে অভিহিত করে অমিত চাকমা বলেন, ‘জাতির অনেক প্রতীক্ষা আপনাদের ঘিরে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়’ বলতে পারার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানান।

Post Author: Pritom Sagor

Leave a Reply