চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আনন্দ পাচ্ছি: বাবু

চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আনন্দ পাচ্ছি: বাবু

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্কঃ নাটক-সিনেমায় নানা চরিত্রে বাস্তবানুগ অভিনয়ে আগেই দর্শক মনে ঠাঁই নিয়েছিলেন ফজলুর রহমান বাবু। তবে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের চলচ্চিত্র ‘মনপুরা’ দিয়ে মানুষের মন জয় করে নেন এই শিল্পী। সম্প্রতি তৌকীর আহমেদের চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’ দিয়ে আবার তিনি আলোচনায় আসেন। সামনে আসছে তার আরো পাঁচ চলচ্চিত্র। গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’, তৌকীর আহমেদের ‘হালদা’, মিজানুর রহমান লাবুর ‘নুরু মিয়া ও বিউটি ড্রাইভার’, নাদের চৌধুরীর ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ ও বদরুল আনাম সৌদের ‘গহীনে বালুচর’। এই পাঁচ চলচ্চিত্রের সব কাজই শেষ। চলছে ডাবিং। খুব শিগগির একে একে মুক্তি পাবে এগুলো।

‍বাবু কয়েকটি চলচ্চিত্রের জন্য গানও গেয়েছেন। বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘মনপুরা’ ছবিতে গাওয়া তার ‘নিথুয়া পাথারে’ গানটি। সবকিছু নিয়ে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে অবস্থান করছেন এই শিল্পী। তার সমসাময়িক ভাবনা নিয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় এই গুণী অভিনেতার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদ উল্লাহ।

এতগুলো চলচ্চিত্র একসঙ্গে প্রচারে আসছে। আপনার এখন সেরা সময় কাটছে নিশ্চয়।

সেরা সময় কি না জানি না, তবে আমি উপভোগ করছি সময়টা। এই চলচ্চিত্রগুলো যারা তৈরি করছেন, তারা সবাই মিডিয়ার মানুষ। আমি এসব স্বাধীন চলচ্চিত্রেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এতে এক ধরনের সন্তুষ্টি কাজ করে। হয়তো এর মধ্যে কোনোটা দর্শক কম দেখবে বা কোনোটা বেশি। কিন্তু এখানে কাজ করে যে আনন্দ পাচ্ছি, তা আর কোথাও পাই না। টেলিভিশন নাটকেও আপনি অনেক জনপ্রিয়। সেখানকার অবস্থা কী?

টেলিভিশন নাটকে বাজেট নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ফলে নাটকের মান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আগে যেসব নির্মাতা ভালো ভালো নাটক তৈরি করতেন, তারা বাজেটের কারণে এখন নাটক বানাতে পারছেন না। পরিচালক কিংবা অভিনেতা-অভিনেত্রী, কেউই পর্যাপ্ত সময় পান না ভালো কাজের জন্য। তাই অভিনয় নিয়ে একটা অতৃপ্তি থেকেই যেত আমার। সেটা সিনেমা করতে পেরে পূরণ হচ্ছে।

এখন আপনার কী কী ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে?

অলসপুর, ঝামেলা আনলিমিটেড, আমাদের হাটখোলা, অষ্টধাতু, মজনু একজন পাগল নহে। এগুলো বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। এ ছাড়া একুশের একটি খণ্ড নাটকে কাজ করেছি। সামনে ঈদের জন্য খণ্ড নাটকে কাজ করতে হবে।

মনপুরায় আপনার গাওয়া গান দর্শকরা এখনো মনে রেখেছে। নতুন গান আবার কবে শুনতে পাবে?

আমি নতুন গান করছি। এর মধ্যে ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’, ‘নুরু মিয়া ও বিউটি ড্রাইভার’-এ গান করেছি। এ ছাড়া দু-এক দিনের মধ্যেই ‘গহীনে বালুচর’-এও একটি গান করব।

অভিনয় প্রসঙ্গে কিছু বলুন?

আমরা যারা অভিনয় করি, তাদের একটি চরিত্রের মধ্যে ঠেলে দিতে হবে। একমাত্র একজন পরিচালকই পারে এটা। আমি যদি বিশ্বাসযোগ্যভাবে সেই চরিত্রটি উপস্থাপন করতে পারি, তবেই মানুষের ভালোবাসা পাব। এটাই একজন অভিনেতাকে বাঁচিয়ে রাখে। অনুপ্রেরণা দেয়। আগে নাটক লেখা, অভিনয়- সবকিছু নিয়ে আলোচনা হতো। ভালো কাজ হতো। এখন এগুলোতে ঘাটতি হচ্ছে।

মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টিভি- কোথায় কাজ করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

একজন প্রকৃত অভিনেতা চান তার চরিত্রটি পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে। সেটা করতে পারার প্রধান জায়গা মঞ্চ ও চলচ্চিত্র। এখানে চরিত্র নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সুযোগ বেশি থাকে। সময় পাওয়া যায় বেশি। মঞ্চে দীর্ঘদিন নিজেকে তৈরি করে উপস্থাপন করা যায়। তাই আমার পছন্দের জায়গা চলচ্চিত্র ও মঞ্চ।

সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

 

[সূত্রঃ ঢাকাটাইমস]

Post Author: shadhinkantho

Leave a Reply