স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ঢাক-ঢোল, কাসর-ঘণ্টা আর উলুধ্বনিতে মুখরিত পরিবেশে যশোরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উদযাপন করেছেন বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী পূজা। বিদ্যালাভের আশায় সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা এ দেবীর আরাধনা করে থাকেন।
পূজা শেষে শিক্ষার্থীরা সরস্বতী দেবীর পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি অঞ্জলি করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা দেবীর কাছে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।
বসন্ত পঞ্চমীর তিথিতে দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদ নিতে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যশোর সরকারি মহিলা কলেজে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এছাড়া যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ, যশোর জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সম্মিলনী ইনসটিটিউশন, জেলা আইনজীবী ভবন, যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন, বেজপাড়া পূজা মন্দিরসহ শহরের প্রধান প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।। এসব স্থানে সনাতনি শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে শ্রীপঞ্চমীর দিন সকালেই সরস্বতী পূজা সম্পন্ন হয়। ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। এসময় স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন ।
প্রতিটি মণ্ডপেই শিক্ষার্থীদের পুষ্পাঞ্জলি প্রদান এবং বিদ্যালাভের আকুল প্রার্থনা লক্ষ্য করা গেছে। দেবী সরস্বতীর চরণে অঞ্জলি শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এবারের পূজায় দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করেন শিক্ষার্থীরা।
ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের শিক্ষার্থী বহ্নি মন্ডল বলেন, ‘মহাসরস্বতী আমাদের বিদ্যার দেবী। আমরা প্রার্থনা করলাম যেন তার আশীর্বাদে নিজের বিদ্যা-বুদ্ধিকে বাড়াতে পারি। ভালো পড়াশোনার মধ্য দিয়ে আমরা একটা পরিচয় করে তুলতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘এই কলেজে প্রতিবছর সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠান হয়। পূজা উপলক্ষে সবার অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় ক্যাম্পাসে। আমরা সবাই মিলে অনেক আনন্দ উপভোগ করছি। সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের সুস্থ সবল রেখে মঙ্গল কামনায় দেবীর কাছে প্রার্থনা করি।’
যশোর সরকারি এম এম কলেজের শিক্ষার্থী দিশা বিশ্বাস বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। আমরা চাই পুলিশ ও প্রশাসন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক এবং দেশে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকুক। সরস্বতী মায়ের পূজায় আমরা সবাই মিলে এখানে অঞ্জলি দিতে এসেছি। মায়ের কাছে আমাদের চাওয়া, আমাদের জ্ঞানের আলো যেন বৃদ্ধি হয়।’
যশোর শহরের বাসিন্দা বিপ্লব দাস বলেন, ‘সরস্বতী পূজা আমাদের ঐতিহ্য। শত শত বছর ধরে এ পূজা হয়ে আসছে। আমরা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজা করে এসেছি। এখন পরিবারের সাথে বাসাবাড়িতে করি।’
পূজার পুরোহিত রামায়ণ শিল্পী উজ্জ্বল কুমার হালদার জানান, ‘সরস্বতী দেবী সত্য ও সুন্দরের প্রতীক। আমরা সারা জীবন যে পড়াশোনা, গান-বাজনা করি, এটাই দান করে থাকেন এই সরস্বতী দেবী। সকল শিক্ষক শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের এই দানটাই দিয়ে থাকেন তিনি। আমরা মায়ের চরণে পড়ে থেকে তার কাছে আহ্বান করি এই দেশ ও দেশের মানুষকে কৃপা এবং রক্ষা করো। আমরা মায়ের কাছে আহ্বান করেছি যেন তিনি সবাইকে সত্যবাণী ধারণ করার শক্তি দেন এবং দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে সুবোধ জাগ্রত করেন।’
পূজা চলাকালে বিভিন্ন মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য মেলেনি।




