১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ভবিষ্যতে ভোটের জন্য মান নির্ধারণ করবে

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে।

বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যাপক শ্রম আইন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আসিয়ান সদস্যপদ লাভে ঢাকার পরিকল্পনা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মূল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুল সংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করবে এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদাররাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক পাঠাবে।

তিনি বলেন, এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। এটি ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের মান নির্ধারণ করবে। আসুন আমরা আশাবাদী হই।

এর জবাবে চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশে আসা রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যারা জিতুক না কেন, তার সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রফেসর ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি রফতানির ওপর শুল্ক কমানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনায় শুল্ক আরও কমানো হবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য আলোচনায় অর্জিত অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কৃষি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা-ওয়াশিংটন আলোচনার মূল ভিত্তি।

প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ক্যাম্পে বসবাসরত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেন।

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আসিয়ানের সদস্যপদ চাইছে এবং ইতোমধ্যে আঞ্চলিক ব্লকের সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে।

প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, তিনি গত ১৮ মাস ধরে সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এই অঞ্চলের জনগণ এবং অর্থনীতিকে আরও কাছাকাছি আনার জন্য গুরুতর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আগামী সরকার এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা বিধিনিষেধ নিয়েও আলোচনা করেছে।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।