স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদকে অবিলম্বে অপসারণের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রবিউল ইসলাম নামে এক সচেতন নাগরিক।
যশোর সদর উপজেলাবাসীর পক্ষে পাঠানো ওই অভিযোগে ইউএনও’র বিরুদ্ধে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্নীতি, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, ঘুষ-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যশোর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য সরকারিভাবে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও ইউএনও নিম্নমানের ও নন-গ্যারান্টিযুক্ত চায়না কোম্পানির ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ইউএনও তার কার্যালয়ের পিএ সজিব খান ও হিসাব সহকারী আকরাম হোসেনের মাধ্যমে সনেট নামে এক সরবরাহকারীর কাছ থেকে এসব ক্যামেরা ক্রয় করেন এবং ক্যাশ মেমোতে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, ইউএনও প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে সহযোগিতা না করে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে তিনি আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। এতে করে যশোর সদর আসনে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউএনও সরকারি বাসভবনে ওঠার সময় বঙ্গবন্ধু টুর্নামেন্টের তহবিলসহ বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করে আসবাবপত্র ও সাজসরঞ্জাম ক্রয় করেছেন, যার অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি পিঠা উৎসবসহ বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ উপেক্ষা করে অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে ট্রাক্টর জব্দ করে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে দু’জন ট্রাক্টর মালিকের বরাতে বলা হয়, ট্রাক্টর ছাড়াতে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় দুটি ট্রাক্টর নিলামে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের ফাইলপত্রে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রেও ইউএনও নানা অজুহাতে সই না করায় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবায় ঘুষ ছাড়া কাজ হচ্ছে না বলে উপজেলাজুড়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এছাড়া অভিযোগে দাবি করা হয়, যশোর সদরের বর্তমান ইউএনও সাফফাত আরা সাঈদ তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল ঢাকা জেলার ধামরাইয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও স্বেচ্ছাচারিতা, নামপত্তনে ঘুষ আদায়, ইটভাটা মালিকদের হয়রানি, সরকারি জমি লিজ প্রদান এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি বেতন স্কেলের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি, ব্যাগ ও গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না। এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ঝুমঝুমপুর বিসিক মার্কেটের বাহার আইটির মালিক তাসু বাহার অভিযোগ করেন, ইউএনও’র নির্দেশে তার দোকানের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে এটি নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




