পরীক্ষা দিতে চান অসুস্থ শিক্ষার্থী আফসানা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
মেয়ের জীবন থেকে ঝরে গেছে দুটি মূল্যবান বছর। মরণব্যাধি ও ভুল চিকিৎসার ধকল কাটিয়ে যখন নতুন করে বাঁচার এবং পড়াশোনার স্বপ্ন দেখছিল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসানা জেরিন, তখনই বাধার পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যশোরের নিউ টাউন গার্লস হাই স্কুলের বিরুদ্ধে এমন অমানবিক আচরণের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার মা তামান্না ইসলাম।
রোববার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তামান্না ইসলাম জানান, ২০২২ সাল থেকে তার মেয়ে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় চিকিৎসকের ভুলে খাদ্যনালী কেটে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় হাসপাতালের বিছানায় কাটাতে হয় আফসানাকে। এই চরম শারীরিক ও আর্থিক সংকটের কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সে অংশ নিতে পারেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে বিধায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধান শিক্ষিকার অনুমতি নিয়েই মেয়েকে পুনরায় স্কুলে নিয়মিত করেন। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যাবতীয় বেতন ও ফি নিয়মিত পরিশোধ করা হলেও টেস্ট পরীক্ষার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক আচরণ শুরু করে। প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষায় কয়েক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার অজুহাতে তাকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
তামান্না ইসলাম আরও বলেন, আমার মেয়ে অসুস্থতার কারণে অনেক মাস পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। আমি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে শুধু সুযোগ চেয়েছি। কিন্তু তারা আমার মেয়ের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করছে। এমনকি কিছু শিক্ষক অপমানজনক ভাষায় কথা বলছেন। বলা হচ্ছে, আমার মেয়ে নাকি ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসে ফেল করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
মায়ের দাবি, অনেক শিক্ষক ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এবং প্রাইভেট না পড়ার কারণে খাতা দেখানোর অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছেন। রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হতে চলায় এবার পরীক্ষা দিতে না পারলে মেয়েটির শিক্ষাজীবন চিরতরে থমকে যাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
এ বিষয়ে নিউ টাউন গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুরাইয়া শিরিন বলেন, জেরিন প্রায় সব বিষয়েই ফেল করেছে। কোনো বিষয়ে ৫, কোনো বিষয়ে ৭ নম্বর পেয়েছে। সব শিক্ষার্থীকেই নোটিশ দিয়ে খাতা দেখানো হয়েছে।  তিনি তামান্না ইসলামের অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেন।