বাংলাদেশকে কৃষি জমি ইজারা দিতে চায় দ.সুদান

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মেহেদী হাসান বিশেষ প্রতিনিধি// দক্ষিণ সুদানে কৃষি উৎপাদনের কথা ভাবছে বাংলাদেশ। দেশটির সরকারও ফসল উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশকে এরই মধ্যে জমি ইজারা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করতে শিগগিরই সুদানে যাবে বাংলাদেশের একটি বিশেষজ্ঞ টিম।বিশ্বের সবশেষ স্বাধীন দেশ দক্ষিণ সুদান।

আয়তনে বাংলাদেশ থেকে প্রায় পাঁচ গুণ বড় হলেও জনসংখ্যা মাত্র এক কোটি ২০ লাখ।দেশটির বেশির ভাগ জমিই সরকারের মালিকানায়। যা পড়ে আছে অনাবাদি।পতিত জমিতে কিভাবে আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃষি উৎপাদান করতে হয় তাও জানা নেই দেশটির জনগণের। এছাড়া দেশের আয়তন অনুযায়ী নেই জনবল।এমন অবস্থায় ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ সুদান থেকে বাংলাদেশে আসা একটি প্রতিনিধি দল ফসল উৎপাদনের জন্য জমি ইজারা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।

কৃষি খাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় দেশটি, জানালেন দক্ষিণ সুদানের সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আমরা অনুধাবন করেছি, কৃষিখাতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। কিভাবে ভূমিকে কাজে লাগিয়ে ফসল উৎপাদন করা যায় সে জন্য আমরা বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছি।’কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেখানে কী ফসল উৎপাদন করা যায়, জমি কীভাবে চাষের আওতায় আনা যায়, তা দেখতে দক্ষিণ সুদানে একটি বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।দক্ষিণ সুদানে কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে দু-দেশেরই লাভ মনে করেন সেখানে কর্মরত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এ কর্মকর্তা।

দক্ষিণ সুদানের জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালকাচার অর্গানাইজেশনের জরুরি বিভাগের প্রধান মেজবানুর রহমান বলেন, ‘এগ্রিকালকাচার সেক্টরে যে তিনটি সাব সেক্টর আছে, সেগুলোতেই খুব বড় ধরণের কাজ করার সুযোগ আছে। জমি আছে অনেক, কৃষকও আছে কিন্তু তারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না। আমাদের যে মেকানিক্যাল আধুনিক এগ্রিকালকাচারের যন্ত্রপাতি আছে সেগুলো এখানে ব্যবহার করা হয়না।

তবে এখানে যদি এই সব আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় তাহলে অনেক অগ্রগতি হবে।’দক্ষিণ সুদানে ছয় লাখ বর্গ কিলোমিটারের বেশি জমি রয়েছে। এর বেশিরভাগ জমিই পতিত পড়ে থাকে, চাষাবাদ হয় না। এ বিশাল এলাকাকে কৃষি উৎপাদানের আওতায় আনতে বাংলাদেশের সহযোগিতা চায় দক্ষিণ সুদান।