নতুন দেশ গড়ার ভোট আজ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রস্তাব ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ এর ওপর চলছে ঐতিহাসিক গণভোট। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভোর সাড়ে ৭টা থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যাবে। ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী তরুণ ভোটার প্রায় ৪৪ শতাংশ। যারা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর এই প্রথমবার ব্যালটের মাধ্যমে নতুন সরকার বেছে নিচ্ছেন ভোটাররা। গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজকের দিনটিকে “নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “একটি ভোট শুধু সরকার নির্বাচন করবে না, এটি দীর্ঘ বঞ্চনা ও স্বৈরতন্ত্রের জবাব দেবে।”

এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুই জোটের মধ্যে। একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। যারা দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যদিকে জামায়াত ইসলামী ও তরুণ নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১১ দলীয় জোট। যারা রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়।

সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা পৃথক ব্যালটে ‘জুলাই সনদ ২০২৫’-এর পক্ষে বা বিপক্ষে মত দিচ্ছেন। এই প্রস্তাব পাস হলে দেশের শাসনব্যবস্থা ও ক্ষমতার ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ভোট।

এবারই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৃহৎ পরিসরে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ উদ্যোগ গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে আরও বিস্তৃত করবে।

রাজধানীর ধানমন্ডি কেন্দ্রে প্রথমবার ভোট দিতে আসা ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী তাসনিম বলেন, “আমি চাই এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে মত প্রকাশে ভয় থাকবে না এবং মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।”

বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশনের আশা, শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। সারা বিশ্বের নজর এখন ঢাকার দিকে ব্যালটের রায়ে বাংলাদেশ কি নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে তার উত্তর মিলবে শিগগিরই।