সীমান্তবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক অমিত শাহর, ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান মমতার

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

বাপ্পি বিশ্বাস কলকাতা প্রতিনিধি:- ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর সরকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বুধবার (৭ মে) দিল্লিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান-নেপাল-ভুটান-বাংলাদেশ-চীন সীমান্তের রাজ্য সরকারগুলোর মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনিক প্রধানরা অংশ নেন মিটিংয়ে। অনেকে স্বশরীরে যুক্ত না থাকলেও ভার্চুয়ালি যোগ দেন বৈঠকে।

এতে যুক্ত ছিলেন কেন্দ্রশাসিত দুই অঞ্চল জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর, ৭ রাজ্যের (পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, উত্তরাখন্ড) মুখ্যমন্ত্রী ও সিকিম সরকারের একজন প্রতিনিধি।

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের একত্রিত থাকতে হবে। এই সময় আমাদের মধ্যে যেন কোন বিভেদ না আসে।

এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজ্যের নাগরিক হিসেবে, সংবাদমাধ্যমের কর্মী হিসেবে আপনাদের দায়বদ্ধতা আছে। এই সময়টা শান্ত এবং সংযত থেকে মানুষকে সঠিক সত্য পরিবেশন করতে হবে, যাতে কোন অশান্তি তৈরি না হয়, কোন সহিংসতা বা সন্ত্রাস না ছড়ায়।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তবর্তী কয়েকটি রাজ্যের সাথে বৈঠক করেছেন. বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পেহেলগামে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করছে আমরা সকলেই একসাথে তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করব। আমরা সবাই দেশের পক্ষে। এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গ চিরকাল দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। কাজেই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কোনরকম ভয় না পেয়ে একদম ঠান্ডা মাথায় সবটা আগলে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন সেই ১৯৭১ সালে শেষ যুদ্ধ হয়েছিল। এরপর কার্গিলের যুদ্ধ কাশ্মিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, পরবর্তীতে বালাকোট বা পুলওয়ামাতেও যে ঘটনা ঘটেছিল তার রেশ এদিকে আসেনি। আজকের যে পরিস্থিতি… যদিও এখানকার সাথে কোন সম্পর্ক নেই, তবু যেহেতু আমরা সাথে অনেকগুলো দেশের সীমান্তে রয়েছে, পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত রয়েছে তাই সবাইকে একসাথে ভালো করে চলতে হবে, শান্তিতে রক্ষা করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলার ১৫ দিনের মাথায় বুধবার (৭ মে) ভোররাতে পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত। এরপরই উত্তেজনা বিরাজ করছে দু’দেশের সীমান্তে।