স্ত্রীর করা যৌতুকের মামলায় ডাক্তার স্বামী কারাগারে

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

রাসেল আহমেদ বরিশাল বিভাগীয় সংবাদদাতা// বরিশালে চিকিৎসক স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির মামলায় ডাক্তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ (১৩ই এপ্রিল) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত ডা. টিপু সুলতানকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। যৌতুক মামলার বাদী হলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিলাদুজ্জাহান ইরা।আসামী হচ্ছেন গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. টিপু সুলতান ও তার বাবা বাদশা ফকির। গতকাল (১২ই এপ্রিল) রাতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ ডা. টিপুকে গ্রেপ্তার করে। গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলালউদ্দিন বলেন, ২০২১ সালের ১৩ আগস্ট গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া গ্রামের বাদশা ফকিরের ছেলে ডা. টিপু সুলতানের সঙ্গে কুমিল্লা জেলার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার দৈয়ারা এলাকার আব্দুল আলিমের কন্যা ডা. মিলাদুজ্জাহান ইরা’র বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ডাঃ টিপু সুলতান তার বাড়ির নির্মাণাধীন ভবনের কাজ সম্পন্নে স্ত্রী ডা. ইরা’র কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন ডা. টিপু। সর্বশেষ গত ৩রা এপ্রিল যৌতুকের টাকার দাবিতে টিপু গৌরনদী এবি সিদ্দিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ৩য় তলায় অ্যানাটমি ফিজিওলজি ল্যাবের রুমের ভেতর ইরাকে আটকে শারীরিক নির্যাতন চালায়।এরপর গত ৪ঠা এপ্রিল রাতে ডা. টিপুর গ্রামের বাড়ি উপজেলার নলচিড়া গ্রামে ইরাকে আটক করে শারীরিক ও মানসিক নিযার্তন করে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। স্বামীর বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ইরা কৌশলে পালিয়ে গত ১২ এপ্রিল দুপুরে গৌরনদী থানায় স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তাৎক্ষণিক পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলা গেট এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ডা. টিপু সুলতানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ডা. টিপু সুলতানকে আজ দুপুরে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক হেলালউদ্দিন জানান।ডা. টিপু সুলতান দাবি করেছেন, তার স্ত্রী তাকে বদলি হয়ে কুমিল্লা নিতে চাপ সৃষ্টি করেছিল। কুমিল্লা নিয়ে তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়্যিদ মো. আমরুল্লাহ জানান, এ বিষয়টি বরিশাল সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই মেডিকেল অফিসার ডা. টিপু সুলতানকে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।