কাকলি সুলতানা স্টাফ রিপোর্টার// নির্মল করো, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’, এই মূলসুরে ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। প্রকৃতি নির্ভর বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে ভাস্কর্য, মোটিফ, মুখোশ নিয়ে চারুকলার উদ্যোগে এই বর্ণিল-ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে এবং কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল এই শোভাযাত্রা।যা নিয়মিত, তাতে ২ বছর ছেদ পড়লে সে এক দীর্ঘ সময় মনে হয়। এরপর, হোক আয়োজন সংক্ষিপ্ত, তবুতো সশরীরে অংশগ্রহণ। তাই আনন্দ বাঁধভাঙা।মঙ্গল শোভাযাত্রার শুরু এমন সময়ে, তখন সামরিক শাসনামল। সেই রক্তচক্ষুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, একইসঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যশোরে চারুপীঠের আয়োজনে ১৯৮৫ সালে হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা।

এরই অনুপ্রেরণায় ১৯৮৯ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট মঙ্গল শোভাযাত্রা করে। এরপর থেকেই মঙ্গল শোভাযাত্রা অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক, যা ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায়।চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে। দু’বছর পর আমরা আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছি।‘একদিকে করোনার মতো অসুখ। আরেকদিকে, দুর্নীতি, অনিয়ম, অন্যায়. অপরাধ ও কূপমণ্ডুকতার মতো কালোশক্তির আস্ফালন। এ সমস্ত নেতিবাচকতাকে প্রতিরোধেই এবারের প্রতিপাদ্য ‘নির্মল করো, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’।মঙ্গল শোভাযাত্রায় ঘুরতে আসা দর্শকেরা বলেন, ‘এসব সংস্কৃতি আসলে আমরা ভুলে যাচ্ছি।
অসাম্প্রদায়িক চেতনা আমাদের মধ্যে বিরাজ করা উচিৎ, কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। সব ধরনের বৈশ্যকে পাশ কাটিয়ে সামনের দিকে বাঙ্গালী পরিচয়ে এগিয়ে যাব।‘মঙ্গল শোভাযাত্রা তাই সবসময়ই সত্য, সুন্দর, সুনীতির প্রতিভূ।







