এ কারণে জামানত হারিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

রংপুর প্রতিনিধি:- রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (রাসিক) আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবারও হেরেছেন। ২০১৭ সালের রাসিক নির্বাচনে প্রার্থী হেরেছিলেন। এবার আওয়ামী লীগ সমর্থক হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়াসহ সাতজন প্রতিরক্ষায় হেরে যান।

নির্বাচনে আ. লীগ মনোনীত প্রার্থীর এমন ভরাডুবির পর নানান প্রশ্ন উঠেছে। এর পেছনে উঠে এসেছে নানান সমীকরণ। অনেকের দাবি, বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ডালিয়া হেরেছে। কেউ বলছে, মনোনয়ন প্রত্যাশীরা শেষ মুহূর্তে গা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, এই অঞ্চলে লাঙলে জনপ্রিয়তাই হারার মূল কারণ।

রংপুরের আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও ভোটাররা বলছেন, কেন্দ্র থেকে প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হয়েছে। তাকে মনোনয়ন না দিয়ে, তরুণ কাউকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভোটার বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী যে ভোট পেয়েছেন, এটা অনেক বেশি। কারণ, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিজস্ব কোনো ভোট ছিল, যা ভোট পেয়েছেন, তা নৌকা প্রেমিকদের কারণে।

আরেক ভোটার বলেন, জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দিয়ে নৌকা প্রতীককে হারিয়ে দেওয়ার পিছনে কাজ করছে। আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন না পাওয়ায় ভিতরে ভিতরে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। মৌখিকভাবে ডালিয়াকে সমর্থন দিলেও অন্তর থেকে কেউ সমর্থন দেননি। এটাও হারের অন্যতম কারণ।ফল গণনা শেষে দেখা যায়, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৯২ ভোট।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফুর রহমান মিলন (হাতি প্রতীক) ৩৩ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া (নৌকা) ২২ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু রায়হান (ডাব প্রতীক) ১০ হাজার ৫৪৯, জাকের পার্টির খোরশেদ আলম (গোলাপ ফুল) ৫ হাজার ৮০৯ ভোট, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুল রহমান মন্ডল (দেওয়াল ঘড়ি) ২ হাজার ৮৬৪, মেহেদী হাসান স্বতন্ত্র প্রার্থী (হরিণ প্রতীক) ২ হাজার ৬৭৯ ভোট ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ শফিয়ার রহমান (মশাল প্রতীক) ৫ হাজার ১৫৬টি ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনে সর্বমোট ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৬টি ভোট পড়েছে।

নির্বাচনে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৬ এবং এক হাজার ৩৬ ভোট বাতিল হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনের বিধি মোতাবেক প্রদানকৃত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় আ. লীগের প্রার্থীসহ সাতজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।