ইসলামপুরে যমুনার করাল গ্রাসে বিলীন হওয়ার পথে চার গ্রাম

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email


শহিদুল ইসলাম নিরব, জামালপুর:

জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনার দুই শাখা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। বর্ষার শুরুতেই সাপধরী ইউনিয়নের চারটি গ্রাম—বিশ রশি, কাশারীডোবা, আকন্দপাড়া ও মণ্ডলপাড়া—ভাঙনের মুখে পড়েছে। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে শত শত ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও আবাদি জমি।

স্থানীয়দের ভাষায়, “এটা এখন আর নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই এমন হয়। কিন্তু এবার ভাঙন যেন আরও হিংস্র।”

ভাঙনপীড়িত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যমুনার শিলদহ ও সিন্দুরতলী নামের দুটি শাখা নদী সাপধরী ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে বয়ে গিয়ে আবার মূল যমুনায় মিলেছে। এই দুই নদীর দুই পাড়েই চলছে ভয়াবহ ভাঙন। বিশেষ করে বিশ রশি, কাশারীডোবা, আকন্দপাড়া ও মণ্ডলপাড়া সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, “নদীভাঙন এখন আমাদের জীবনযাত্রার স্থায়ী যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর কয়েকশ’ বিঘা জমি ও বসতভিটা যমুনার পেটে চলে যায়। এবারও তিন-চারটি গ্রাম মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।”

চরাঞ্চলের মানুষেরা জানান, আশির দশকের শুরুর দিকে যমুনার বাম তীরের প্রজাপতি, চরশিশুয়া ও চেঙ্গানিয়া এলাকায় প্রথম বড় ধরনের ভাঙন শুরু হয়। এরপর একে একে অনেক গ্রাম বিলীন হয়ে যায়। ২০০১ সালের পর কিছু চরে নতুন জমি জেগে উঠলে মানুষ সেখানে আবার বসতি স্থাপন করেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে ভাঙন আবার বাড়ছে।

সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ আলম মণ্ডল বলেন, “বিশ রশির বেশিরভাগ অংশ আগেই ভাঙনে চলে গেছে। এবারও যদি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ না দেওয়া হয়, তাহলে চারটি গ্রামই চিরতরে হারিয়ে যাবে।”

তিনি যমুনার দুটি শাখা নদীর চারটি প্রধান ভাঙনপ্রবণ পয়েন্টে অবিলম্বে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জামালপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান মুঠোফোনে বলেন, “আমরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৩০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, শুধু পরিকল্পনা নয়, এবার দরকার তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন। নইলে আসন্ন বর্ষা ও বন্যায় পুরো অঞ্চলটা নদীগর্ভে চলে যাবে।