স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ই-ক্যাবের সাবেক সভাপতি ও অভিনেত্রী শমী কায়সারকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।
তার জামিন বিষয়ে জারিকৃত রুলের শুনানি নিয়ে সোমবার (১১ আগস্ট) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে রাজধানীর উত্তরায় টঙ্গী সরকারি কলেজের অনার্স শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান ইউসুফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় শমী কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ঢাকার সিএমএম আদালত।
২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর রাতে উওরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডের ৫৩ নম্বর বাসা থেকে আটক করা হয় শমী কায়সারকে।
এরপর গত ১২ মার্চ হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় করা মামলায় অভিনেত্রী শমী কায়সার জামিন পান।
ওই মামলায় অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন শমী কায়সার। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করে।
এরপর আপিল বিভাগ চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করতে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় রুলের শুনানি শেষে জামিন দিয়ে রুল নিষ্পত্তি করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ১৪ আগস্ট দেশের ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন শমী কায়সার।
শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সার ও লেখক, গবেষক, শিশু সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য পান্না কায়সার দম্পতির সন্তান শমী কায়সার নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন। পরে তিনি প্রযোজনায়ও নাম লেখান।
শমী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন তিনি ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি ছিলেন, হয়েছিলেন এফবিসিসিআই পরিচালকও।
তিনি আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। চলতি বছর দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি।







