স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যাত্রী সেবা পরিচালনার জন্য নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রীন লজিস্টিককে দায়িত্ব দেওয়ায় এর প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো মানববন্ধন করেছে বেনাপোল পোর্ট চেকপোস্ট কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ ২০৮৪)। রবিবার সকালে প্রায় ৩০০ শ্রমিক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ কালু জানান, দীর্ঘদিন ধরে কুলিরা এই বন্দরে যাত্রীসেবার কাজ করে আসছেন। কিন্তু তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ করে একটি নতুন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০৮ সালে ইস্যু করা তাদের পরিচয়পত্রগুলো পুনরায় চালু করা এবং ২০২২ সালে স্মার্ট আইডি কার্ডের জন্য করা আবেদন দ্রুত বাস্তবায়ন করা। একইসঙ্গে, তারা রেজিস্ট্রেশন নং ২০৮৪-এর অধীনে তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দাবি করেন।
মানববন্ধন শেষে কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) এর সঙ্গে বৈঠক করেন। কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, বিষয়টি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি সমাধান জানানো হবে।
অন্যদিকে, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, এতদিন কুলিরা কোনো ধরনের সরকারি ফি ছাড়াই লাগেজ বহন করত। কিন্তু সম্প্রতি নতুন প্রতিষ্ঠান গ্রীন লজিস্টিক-কে যাত্রীসেবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা তাদের আদায়কৃত সার্ভিস চার্জের ২০ শতাংশ বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেবে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে একটি চুক্তিও হয়েছে।
জানা গেছে, গ্রীন লজিস্টিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নাইমুর রহমান, যিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির সদস্য। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা, সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা যাত্রীদের জন্য লাগেজ র্যাপিং, বিশেষ সহায়তাপ্রাপ্ত যাত্রীদের পরিষেবা, ডিজিটাল সেবা এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা করছে।
এই পরিস্থিতিতে কুলি শ্রমিকদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।






