স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোর জেলার মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে দীর্ঘ কয়েক যুগের জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার দাবিতে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে “ভবদহ-আমডাঙ্গা সংস্কার আন্দোলন”।
শনিবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের হল রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং টিআরএম প্রকল্পের দুর্নীতির কারণে জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অবিলম্বে এই সমস্যা সমাধানে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভবদহ-আমডাঙ্গা সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি ও সুফলাকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর রহমান। এ সময় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জলাবদ্ধতার শিকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য আশু ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি দাবি পূরণের জন্য জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, পর্যাপ্ত খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। দ্রুত পাম্পিংয়ের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করে চলতি মৌসুমে মাঠকে ইরি ফসলের উপযোগী করতে হবে। ভবদহ সুইসগেটের সব কটি ভল্ট অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্দোলনকারীরা দাবি পেশ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে, ১৯২৭ সালের ম্যাপ অনুযায়ী নদীর সীমানা পুনরুদ্ধার করে খনন করতে হবে। ২৭ বিল সহ ভবদহ নদী সংযুক্ত বিলের খালসমূহ পুনরুদ্ধার ও খনন করতে হবে। আমডাঙ্গা খাল প্রশস্ত ও গভীর ভাবে খনন করে ভৈরব নদীর সাথে সংযোগ করে দিতে হবে। নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ড্রেজিংয়ে অপসারিত পলিমাটি দূরে ফেলতে হবে, যাতে তা পুনরায় নদীতে না পড়ে।ভবদহের সুইস গেট আধুনিকায়নপূর্বক উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে হবে। মুক্তেশ্বরী নদী থেকে ভবদহ হয়ে মধুখালি বারোহাড়ি তিন নদীর মোহনা পর্যন্ত নদী খনন করতে হবে।অপরিকল্পিত মৎস্য চাষ (মাছের ঘের) অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। টিআরএম প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দাবিগুলো পূরণ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। তারা সরকারকে অবিলম্বে ১৫টি ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।






