স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
দৈনিক লোকসমাজ ও দৈনিক দিনকালের শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি এবং যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ এনে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিমের অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি করেছে যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেডিইউজে)।
বুধবার (০৮ অক্টোবর) জেডিইউজে’র পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার, যশোর বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়। জেডিইউজে সভাপতি দিনু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ ও প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল কবির নান্টু স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনির নিঃশর্ত মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ওসির অতি-উৎসুক কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর শার্শা থানার ওসি আব্দুল আলিম এক সন্দিগ্ধ তৃতীয় লিঙ্গের স্কুল ছাত্রের মৌখিক অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনিকে ডেকে আনেন। সেখানে মনি অভিযোগটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন। ঠিক সেই সময় ওসি কারও ফোন রিসিভ করে কথা বলার পরই অতি-উৎসুক হয়ে মামলা রেকর্ডের আগেই সাংবাদিক মনিকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেন। এরপর কোনো ধরণের তদন্ত বা অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়াই দ্রুত তাকে আটক দেখিয়ে মামলা রেকর্ড করে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়।
জেডিইউজে মনে করে, ওসির এমন অতি-উৎসুক কার্যক্রম ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি কোনো ব্যক্তি বা মহলের স্বার্থ রক্ষায় ফোন পেয়ে প্রভাবিত হয়েছেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কোনো তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা আলামত উদ্ধার ছাড়াই মনিকে জেলে পাঠানোর সব ব্যবস্থা করেছেন ওসি, যা কোনোভাবেই আইনসম্মত নয়। সাংবাদিক সমাজ এই আচরণকে ফ্যাসিবাদী শাসনামলের পুলিশি আচরণের সঙ্গে তুলনা করেছে।
জেডিইউজে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি বিগত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করছেন এবং বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত। এই দীর্ঘ সময়ে তার বিরুদ্ধে চারিত্রিক বা অনৈতিকতার একটি অভিযোগও শোনা যায়নি। সততার কারণে তিনি অন্তত: দু’বার হত্যা প্রচেষ্টার শিকার হয়েছেন। স্মারকলিপিতে জানানো হয়, মনি প্রায় ১৫ বছর ধরে উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অক্ষম। এ কারণে সাংবাদিক সমাজ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, তিনি মিথ্যা ষড়যন্ত্রের কলঙ্ক বহন করছেন।
সাংবাদিক নেতারা মনে করেন, শার্শা থানার বর্তমান ওসিকে বহাল রেখে সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনির জন্য ন্যায় বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। একারণে জেডিইউজে অবিলম্বে শার্শা থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এই দাবিতে যশোর, শার্শা ও বেনাপোলের সাংবাদিকরা ইতোমধ্যে কয়েক দফা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। আগামী ৯ অক্টোবর বেনাপোল স্থলবন্দর অবরোধের কর্মসূচিও রয়েছে।
জেডিইউজে পুলিশ সুপারের প্রতি আশা প্রকাশ করে, তিনি সার্বিক বিষয় মূল্যায়ন করে শার্শার ওসিকে প্রত্যাহারের মাধ্যমে সাংবাদিক মনির মুক্তির পথ সুগম করবেন।






