স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের নীলকন্ঠনগর গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সাবেক নাতজামাইয়ের ছুরিকাঘাতে মহিউদ্দিন (৭০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত মহিউদ্দিনের স্ত্রীসহ উভয়পক্ষের আরও চারজন আহত হয়েছেন। জোর করে নাতনীকে (সাবেক স্ত্রী) বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
নিহত মহিউদ্দিন নীলকন্ঠনগর গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের পুত্র। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর পূর্বে মহিউদ্দিনের নাতনীর সাথে যশোরের পাগলাদাহ গ্রামের মোনতাজ এর ছেলে তবিবরের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। গত ২৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সাবেক নাতজামাই তবিবর আরও অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন সঙ্গীকে নিয়ে মহিউদ্দিনের নাতনীকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার জন্য আসে।
এ সময় মহিউদ্দিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাধা দিলে তবিবর ও তার সঙ্গীরা ক্ষিপ্ত হয়ে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এতে মহিউদ্দিন (৭০), তার স্ত্রী তাজুমা বেগম (৬০) ও আকরামের ছেলে আমিনুর রহমান (৩০) গুরুতর আহত হন।
মহিউদ্দিনদের বাড়ির লোকজনের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তবিবরসহ তার সঙ্গীদের ধরে গণপিটুনি দেয়। এ সময় আহতদেরকে উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে যশোর কোতোয়ালি থানার ছোট মেঘলা গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে আহম্মদ আলী (২৬) এবং পালবাড়ির শাহাজাহানের ছেলে মোহন (৩০)-কে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরা তবিবরের সহযোগী এবং গণপিটুনিতে কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
তবে মহিউদ্দিন, আমিনুর রহমান এবং তাজুমা বেগম এর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাঁদের যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। যশোর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মহিউদ্দিনের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে নড়াইল জেলায় অবস্থানকালীন সময়ে তিনি মারা যান। গুরুতর আহত তাজুমা বেগম ও আমিনুর রহমান যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর মোহাম্মদ গাজী বলেন, “পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মামলা গ্রহণের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।”







