স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর বিরুদ্ধে এবার দেড় কোটি টাকার চেক ডিজঅনারের আরও দুটি মামলা হয়েছে। এর আগে ৯০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের হওয়ার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় নতুন করে এই মামলাগুলো করা হলো।
বুধবার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি-এর পক্ষে যশোর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মুর্তুজা আহম্মেদ মামলা দুটি দায়ের করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার মণ্ডল অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামি তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।
তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু শহরের পুরাতন কসবা কাঁঠালতলার আব্দুল কাদের চাকলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু ইউসিবি ব্যাংকের ধ্রুব্য পদ্ধতির মাধ্যমে এক কোটি টাকা বিনিয়োগ সুবিধা নিয়েছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে আসল ও লভ্যাংশ পরিশোধ করার কথা ছিল। বর্তমানে তার কাছে ব্যাংকের পাওনা রয়েছে এক কোটি ২৯ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকা।
গত ২০ আগস্ট বাদী ফন্টুর সঙ্গে দেখা করে পাওনা টাকা দাবি করলে তিনি এক কোটি টাকার একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু সেটি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের যশোর শাখায় জমা দিলে ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে ২৮ আগস্ট লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও, ৩০ দিন পার হওয়ার পরও ফন্টু কোনো সাড়া দেননি। এরপরই বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অন্য মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একই প্রক্রিয়ায় ফন্টু ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর ৫০ লাখ টাকার বিনিয়োগ সুবিধা নিয়েছিলেন। এই টাকাও ২০২৪ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে পরিশোধের কথা ছিল। বর্তমানে ওই হিসাবে ব্যাংকের পাওনা রয়েছে ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ১৭২ টাকা।
গত ২১ আগস্ট ফন্টুর কাছে টাকা চাইলে তিনি ৫০ লাখ টাকার একটি চেক দেন। সেই চেকটিও ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর ডিজঅনার হয়। এই ক্ষেত্রেও ২৮ আগস্ট লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় বাদী আদালতে আরও একটি মামলা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক পৃথক দুটি অভিযোগই আমলে নিয়েছেন। দুই মামলায় আসামি তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে এবং আগামী ২৫ মার্চ আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবরও একই ব্যাংক কর্মকর্তার দায়ের করা ৯০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে দুটি মামলা আদালত গ্রহণ করেছিলেন।






