পুলেরহাট ও কেশবপুরে নদী পরিদর্শন,পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

যশোরের নদীগুলো দখল, দূষণ ও নাব্যতা সংকটে বিপর্যস্ত—এমন বাস্তবতা সরেজমিনে দেখতে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) যশোরে পরিদর্শনে আসেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মাকছুমুল হাকিম চৌধুরী। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি শহরতলীর মুক্তেশ্বরী নদী ও কেশবপুর উপজেলার আপার ভদ্রা নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

দখল চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, “নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এসেছি। প্রশাসন, স্থানীয় জনগণ ও আন্দোলনকারীদের সহযোগিতায় যশোরের নদীগুলো দখলমুক্ত করা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরতলীর পুলেরহাট এলাকায় মুক্তেশ্বরী নদী পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান—ওই অংশে আদ্ব-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নদীর বৃহৎ অংশ দখল করে ব্যবহার করছে। বিষয়টি দেখে কমিশনের চেয়ারম্যান সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনের আগে সকালে যশোর সার্কিট হাউসে “মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন কমিটি” কমিশনের চেয়ারম্যানের হাতে একটি স্মারকলিপি দেয়।
স্মারকলিপিতে মুক্তেশ্বরী নদীসহ আশপাশের খালগুলোর দখলদার উচ্ছেদ, নদী খনন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
কমিটির আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস বলেন, “নদী মানে জীবন, নদী বাঁচাতে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে যশোরের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”

দুপুরে কমিশনের চেয়ারম্যান কেশবপুর উপজেলার আপার ভদ্রা নদী পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন। পরিদর্শনকালে নদীর ভেতরে একটি বাজার, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ ৮৮টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত হওয়ার তথ্য জানানো হয়, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সচিব মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল বাকী, সহকারী প্রধান মো. তৌহিদুল আজিজ ও সাকির মাহমুদসহ কর্মকর্তারা পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি, কেশবপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ নেওয়াজ ও স্থানীয় সাংবাদিকরাও অংশ নেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন ১৯০ কোটি টাকার পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় কেশবপুর, মণিরামপুর, অভয়নগর, ডুমুরিয়া ও তালা উপজেলায় মোট ৮১.৫ কিলোমিটার নদী খননের কাজ চলছে।

মুক্তেশ্বরী বাঁচাও কমিটি ও স্থানীয় আন্দোলনকারীরা বলছেন-“নদী বাঁচাও মানে মানুষ বাঁচাও। প্রশাসনের তৎপরতা শুরু হলেও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের রক্ষা চেষ্টাই সবচেয়ে বড় বাধা।”

যশোরের নদীগুলো বহু বছর ধরে যেমন অবহেলায় শুকিয়েছে, তেমনি দখলদারদের পেটে গিয়েছে জমি। এবার প্রশ্ন—এই পরিদর্শন কি নদীর মুক্তি এনে দেবে, নাকি আগের মতোই কাগজে ‘রক্ষা অভিযান’ চলবে?