স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী কমরেড দাউদ হোসেন-এর পরলোকগমনে গভীর শোক প্রকাশ করেছে নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা, যশোর জেলা। মোর্চার পক্ষ থেকে কমরেড খবির শিকদার এক বিবৃতিতে এই শোক ও অপূরণীয় ক্ষতির কথা তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে কমরেড খবির শিকদার বলেন, কমরেড দাউদ হোসেনের প্রয়াণ বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলন, বাম রাজনীতি এবং নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সংগ্রামের জন্য এক গভীর শোক ও অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন এক অগ্নিমনস্ক, নিভৃতচারী কিন্তু দৃঢ়চেতা তাত্ত্বিক কর্মী।
৬০-এর দশকের গণআন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তিনি নিপীড়িত মানুষের স্বপক্ষে অবিচল নিষ্ঠায় লড়াই করেছেন। ১৯৬৮ সালে শ্রমিক–কৃষক কর্মীসংঘে যোগ দিয়ে কৃষক–শ্রমিক আন্দোলন সংগঠনে তিনি যে ভূমিকা রেখেছিলেন, তা আজও বিপ্লবী ইতিহাসে উজ্জ্বল বলে উল্লেখ করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কলকাতায় ‘বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি’-তে তিনি সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন।
কমরেড দাউদ হোসেনের বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, তাঁর অনুবাদকর্ম ‘রাশিয়ায় পুঁজিবাদের বিকাশ’ বাংলার মার্কসবাদী চিন্তার জগতে এক অমূল্য সংযোজন। এছাড়া তাঁর রচিত ‘মার্কসবাদের বঙ্গীয় স্বরূপ’, ‘বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থা’, ‘বিংশ শতাব্দীর শেষ বাঁকের দ্বান্ধিকতা’, ‘বিজ্ঞান বিচিত্রা’, ‘প্রসঙ্গ বিবিধ’, এবং ‘আমারে কবর দিও হাঁটুভাঙ্গার বাঁকে’—প্রতিটি গ্রন্থ তাঁর দার্শনিক গভীরতা, বিশ্লেষণশক্তি এবং বিপ্লবী মননের দৃষ্টান্ত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাঁর সম্পাদিত অনুবাদগ্রন্থ ‘Bangladesh Genocide and World Press’ ইতিহাসচর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছে।
৮১ বছর বয়সে এই মহান বিপ্লবী চিন্তকের প্রয়াণকে ব্যক্তিগত ক্ষতি ছাড়াও বাংলাদেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডল, বিপ্লবী রাজনীতি এবং মানুষের মুক্তির সংগ্রামের জন্য বিশাল ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা, যশোর জেলার পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে কমরেড খবির শিকদার বিপ্লবী কমরেড দাউদ হোসেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও লাল সালাম জানান।
শোকবার্তার শেষে তিনি অঙ্গীকার করেন, “তাঁর আদর্শ, লড়াই ও মানবমুক্তির স্বপ্ন আমাদের পথ দেখাক—আমরা সংগ্রামে অবিচল থাকব।”







