Jashore , Monday, 9 November 2026
সর্বশেষ:
যশোরে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা কেশবপুরে ঘের ব্যবসায়ী হত্যায় পল্লিচিকিৎসকসহ আটক ২ যশোরে কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা, স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ২ মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেফতার ৫ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি সচিব যশোর সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে বাওড় দখল ও মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন যশোরে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত যশোরে হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় ফল কুল এই চাষে ব্যাপক সাফল্য

কামরুজ্জামান সজীব ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:- কুল চাষ এ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার মাঠিলা গ্রামের চাষীরা আবাদ হচ্ছে বাণিজ্যিকভিত্তিতে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে চাষীরা যখন ভাগ্য বদলের খেলায় পরাজিত হচ্ছে, ঠিক তখনই প্রযুক্তির সমন্বয়ে কুলের বাগানে সাথী ফসল ফলিয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে বেকার কুল চাষীরা।

জানা যায়, জেলার প্রতিটি উপজেলায় কমবেশি গ্রাম পল্লীতে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হচ্ছে হাইব্রিড জাতের কুল। মচমচে, রসালো, টক মিষ্টি ও সুস্বাদু ফল হিসেবে বাউকুল ও আপেল কুলের কোন তুলনা নেই। ভালো দাম ও ব্যাপক চাহিদার কারণে ঝিনাইদহ মহেশপুর মাঠিলা গ্রামের কুল চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে।

অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে লাভজনক সুস্বাদু ফল কুল চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে চাষীরা। দৃষ্টিনন্দন, সুস্বাদু বাউ ও আপেল কুলে এবারও ছেয়েছে ঝিনাইদহ জেলা মহেশপুরে মাঠিলা গ্রামের পল্লী উন্নয়ন অবদান। অনাবাদী জমি, বসতবাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন মাঠে শুধু কুলের গাছ।

কুল চাষী মুন্না

কোথাও কোথাও এসব গাছে ফুল থেকে ফল ইতোমধ্যে বড় বড় হয়ে উঠেছে। বেকার ও দারিদ্র জনগোষ্ঠির মানুষ এবং প্রান্তিক চাষীরা ব্যাপক ফলনশীল কুলের আবাদ করে অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় তাকিয়ে রয়েছে।

এদিকে মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়াতে কৃষিজমির খুবই অল্প তাই একটু লাভের আশায় শীত মৌসুমের অন্যতম এ দেশী ফসলের দিকে। কিছুদিনের মধ্যেই এ ফল ছড়িয়ে যাবে হাটবাজারে।জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ জেলায় চলতি মৌসুমে এক হাজার ২ শত ২৫ হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ হয়েছে।

জেলার পল্লীতে কুলের মাতৃগাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। যার কারণে একাধিক পেলা বা ঠেস দিতে হয়েছে। মাঠে মাঠে আপেল কুল ও বাউকুল কৃষিখাতে খুলে দিয়েছে এক অপার সম্ভাবনারখাত।

শীতের নিজস্ব মওসুমী ফল হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এ ফল। এছাড়াও বিচ্ছিন্নভাবে রাস্তার পাশে, পুকুরের ধারসহ বিভিন্ন স্থানে সৌখিন ব্যক্তিবর্গ বাউ কুলের আবাদ করে। গ্রামাঞ্চলের চাষীরা ছাড়াও বেকার যুবকরা এ কুল চাষে ঝুঁকছে। বিভিন্ন জাতের কুলের আবাদ হচ্ছে মাঠের পর মাঠ।

কুলের খামারীরা অনেকেই বাজারে কুল বিক্রি করছেন। বাজারে কুলের দামও ভালো।কুলচাষী লিয়াকত আলী, মনি,ও আজিজুল হক জানায়, উৎপাদন খরচ ও পরিশ্রমের তুলনায় কুল চাষ অত্যন্ত লাভজনক। একটি চারা গাছ ৬ মাস বয়সেই ফল দেয়া শুরু করে। একেকটি গাছ ৩০ থেকে ৪০ কেজি কুল উপহার দেয়।

মাঠিলা গ্রামের অনেক কুল চাষী এ ফল আবাদের পাশাপাশি কুলের সাথী ফসল হিসেবে লাল শাক, পুঁই, মরিচ, রসুন, আলু ও তিল চাষ হচ্ছে।কুল চাষীদের কুল বাগানে চোখ জুড়ানো কুলের ফলন হয়েছে। কুলের ভারে গাছ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।উৎপাদন খরচ ও পরিশ্রমের তুলনায় কুল চাষ অত্যন্ত লাভজনক।

একটি চারাগাছ ৬ মাস বয়সেই ফল দেয়া শুরু করে। একেকটি গাছ থেকে অনেক কুল পায় চাষীরা। এছাড়াও কুল চাষের জন্য এখানকার মাটি উপযোগী হওয়ায় কুল চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের।কুল চাষে ভালো সফলতা পাওয়ায় বেকার শিক্ষিত যুবকরা কুল চাষের দিকে ঝুঁকছে।

কুল চাষে ব্যাপক সাফল্য ব্যাপারটা স্থানীয় প্রতিনিধি বাপ্পি বিশ্বাস কে ফিচার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আগামী বছরে আমি এই কুলের চাষ করবো ব্যাপকভাবে।

এ কুল চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এ কুলের আবাদ করলে চাষীরা একদিক দিয়ে যেমন কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে, অপরদিকে দিনমজুর শ্রমিকরাও নতুন কর্মস্থল খুঁজে পাচ্ছে সেই সাথে পুষ্টিকর ফলের চাহিদাও পূরণ হবে।

কুল চাষীদের যদি অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করা যায়, তাহলে এ মহেশপুর যাদবপুর ইউনিয়নের মাঠিলা গ্রামের কুলের আবাদ বৃদ্ধি পাবে। দারিদ্র বিমোচনে বিরাট অবদান রাখবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:53 am, Thursday, 14 January 2021
48 Time View

পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় ফল কুল এই চাষে ব্যাপক সাফল্য

Update Time : 09:53 am, Thursday, 14 January 2021

কামরুজ্জামান সজীব ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:- কুল চাষ এ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার মাঠিলা গ্রামের চাষীরা আবাদ হচ্ছে বাণিজ্যিকভিত্তিতে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে চাষীরা যখন ভাগ্য বদলের খেলায় পরাজিত হচ্ছে, ঠিক তখনই প্রযুক্তির সমন্বয়ে কুলের বাগানে সাথী ফসল ফলিয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে বেকার কুল চাষীরা।

জানা যায়, জেলার প্রতিটি উপজেলায় কমবেশি গ্রাম পল্লীতে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হচ্ছে হাইব্রিড জাতের কুল। মচমচে, রসালো, টক মিষ্টি ও সুস্বাদু ফল হিসেবে বাউকুল ও আপেল কুলের কোন তুলনা নেই। ভালো দাম ও ব্যাপক চাহিদার কারণে ঝিনাইদহ মহেশপুর মাঠিলা গ্রামের কুল চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে।

অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে লাভজনক সুস্বাদু ফল কুল চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে চাষীরা। দৃষ্টিনন্দন, সুস্বাদু বাউ ও আপেল কুলে এবারও ছেয়েছে ঝিনাইদহ জেলা মহেশপুরে মাঠিলা গ্রামের পল্লী উন্নয়ন অবদান। অনাবাদী জমি, বসতবাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন মাঠে শুধু কুলের গাছ।

কুল চাষী মুন্না

কোথাও কোথাও এসব গাছে ফুল থেকে ফল ইতোমধ্যে বড় বড় হয়ে উঠেছে। বেকার ও দারিদ্র জনগোষ্ঠির মানুষ এবং প্রান্তিক চাষীরা ব্যাপক ফলনশীল কুলের আবাদ করে অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় তাকিয়ে রয়েছে।

এদিকে মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়াতে কৃষিজমির খুবই অল্প তাই একটু লাভের আশায় শীত মৌসুমের অন্যতম এ দেশী ফসলের দিকে। কিছুদিনের মধ্যেই এ ফল ছড়িয়ে যাবে হাটবাজারে।জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ জেলায় চলতি মৌসুমে এক হাজার ২ শত ২৫ হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ হয়েছে।

জেলার পল্লীতে কুলের মাতৃগাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। যার কারণে একাধিক পেলা বা ঠেস দিতে হয়েছে। মাঠে মাঠে আপেল কুল ও বাউকুল কৃষিখাতে খুলে দিয়েছে এক অপার সম্ভাবনারখাত।

শীতের নিজস্ব মওসুমী ফল হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এ ফল। এছাড়াও বিচ্ছিন্নভাবে রাস্তার পাশে, পুকুরের ধারসহ বিভিন্ন স্থানে সৌখিন ব্যক্তিবর্গ বাউ কুলের আবাদ করে। গ্রামাঞ্চলের চাষীরা ছাড়াও বেকার যুবকরা এ কুল চাষে ঝুঁকছে। বিভিন্ন জাতের কুলের আবাদ হচ্ছে মাঠের পর মাঠ।

কুলের খামারীরা অনেকেই বাজারে কুল বিক্রি করছেন। বাজারে কুলের দামও ভালো।কুলচাষী লিয়াকত আলী, মনি,ও আজিজুল হক জানায়, উৎপাদন খরচ ও পরিশ্রমের তুলনায় কুল চাষ অত্যন্ত লাভজনক। একটি চারা গাছ ৬ মাস বয়সেই ফল দেয়া শুরু করে। একেকটি গাছ ৩০ থেকে ৪০ কেজি কুল উপহার দেয়।

মাঠিলা গ্রামের অনেক কুল চাষী এ ফল আবাদের পাশাপাশি কুলের সাথী ফসল হিসেবে লাল শাক, পুঁই, মরিচ, রসুন, আলু ও তিল চাষ হচ্ছে।কুল চাষীদের কুল বাগানে চোখ জুড়ানো কুলের ফলন হয়েছে। কুলের ভারে গাছ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।উৎপাদন খরচ ও পরিশ্রমের তুলনায় কুল চাষ অত্যন্ত লাভজনক।

একটি চারাগাছ ৬ মাস বয়সেই ফল দেয়া শুরু করে। একেকটি গাছ থেকে অনেক কুল পায় চাষীরা। এছাড়াও কুল চাষের জন্য এখানকার মাটি উপযোগী হওয়ায় কুল চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের।কুল চাষে ভালো সফলতা পাওয়ায় বেকার শিক্ষিত যুবকরা কুল চাষের দিকে ঝুঁকছে।

কুল চাষে ব্যাপক সাফল্য ব্যাপারটা স্থানীয় প্রতিনিধি বাপ্পি বিশ্বাস কে ফিচার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আগামী বছরে আমি এই কুলের চাষ করবো ব্যাপকভাবে।

এ কুল চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এ কুলের আবাদ করলে চাষীরা একদিক দিয়ে যেমন কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে, অপরদিকে দিনমজুর শ্রমিকরাও নতুন কর্মস্থল খুঁজে পাচ্ছে সেই সাথে পুষ্টিকর ফলের চাহিদাও পূরণ হবে।

কুল চাষীদের যদি অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করা যায়, তাহলে এ মহেশপুর যাদবপুর ইউনিয়নের মাঠিলা গ্রামের কুলের আবাদ বৃদ্ধি পাবে। দারিদ্র বিমোচনে বিরাট অবদান রাখবে।