নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের জাহাজ কিনছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য একটি আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ক্রয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে একটি চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজিত হতে যাচ্ছে।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নৌবাহিনী সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. শফিকুর রহমান এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিস ন্যানিসে কালোবুলাওয়াসাইকাবারা চুক্তিতে সই করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার, যুক্তরাজ্যের সামরিক উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ একটি অত্যাধুনিক জরিপ জাহাজ, যা ২০০২ সালে ব্রিটিশ নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছিল। এতে রয়েছে— মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সাইড স্ক্যান সোনার ও সাব-বটম প্রোফাইলারের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি। গভীর সমুদ্র জরিপ, সীবেড ম্যাপিং এবং ভৌত ওশানোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহে এটি অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া এতে রয়েছে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

আইএসপিআর জানায়, জাহাজটি সংগ্রহের ফলে বাংলাদেশের নীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) ও সামুদ্রিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এটি আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার (আইএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী নেভিগেশনাল চার্ট প্রণয়নে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণায় এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া গভীর সমুদ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা প্রতিরোধ এবং সমুদ্রের তেল-গ্যাস ব্লকে নজরদারি বৃদ্ধিতে জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

২০২৩ সালে ডিকমিশন হওয়া এই জাহাজটি বর্তমানে পুনঃসংস্কার (রি-জেনারেশন) প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সকল আনুষ্ঠানিকতা ও কারিগরি সংস্কার শেষে ২০২৭ সালের মধ্যে জাহাজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সামরিক সহযোগিতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে উভয় পক্ষ।