বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২৬
Homeসারাদেশদক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলনতুন বছরকে ঘিরে উৎসবে মাতোয়ারা যশোর

নতুন বছরকে ঘিরে উৎসবে মাতোয়ারা যশোর

মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার প্রকৃতির বন্দনা

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
বসন্তের বিদায়ী হাওয়ায় এখন সাজ সাজ রব। দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের কেতন উড়াতে উন্মুখ হয়ে আছে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত যশোর। প্রতিবছরের মতো এবারও জেলাজুড়ে বইছে আনন্দের হিল্লোল। আর সেই আনন্দকে বর্ণিল রূপ দিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরের কয়েকশ সাংস্কৃতিক কর্মী।

যশোরের আনাচে-কানাচে এখন রঙের ছড়াছড়ি। তুলির আঁচড়ে প্রাণ পাচ্ছে মাটির সরা, আর বাঁশ-কাগজের শৈল্পিক কারুকাজে তৈরি হচ্ছে হাতি, ঘোড়া আর লোকজ সব প্রতিকৃতি। এবারের বর্ষবরণকে ঘিরে জেলার প্রায় ৩০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন একযোগে প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

যশোরের চারুপীঠ ও চারুতীর্থের আঙিনায় গেলে দেখা যায় এক অন্যরকম ব্যস্ততা। শিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে বিশাল আকৃতির পেঁচা, গিরগিটি, বাঘের মুখোশ আর রাজা-রাণীর অবয়ব। তবে এবারের আয়োজনে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে থাকছে ‘প্রকৃতি’।

চারুতীর্থ যশোরের সাধারণ সম্পাদক সজল ব্যানার্জী জানান, এবার তাদের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় প্রকৃতি। তিনি বলেন, আমাদের এবারের আকর্ষণ থাকবে সূর্য, গাছ আর পাখি। এই প্রতিটি উপাদান মানুষের মতো কথা বলবে, হাত-পা নাড়াবে। পৃথিবী থেকে যেভাবে বনভূমি উজাড় হচ্ছে আর প্রাণীকুল হুমকির মুখে পড়ছে, আমরা সেই বার্তাই দিতে চাই। প্রকৃতি যেন মানুষের কাছে আশ্রয় ভিক্ষা করছে—এমন একটি ভাবনা আমরা তুলে ধরব।

সাংস্কৃতিক কর্মী সীমান্ত হরি জানান, বড় ধরণের প্রস্তুতির কারণে কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা বা ‘ফিনিশিং টাচ’। এবারের শোভাযাত্রা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি আনন্দময় ও উৎসবমুখর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মঙ্গল শোভাযাত্রার অন্যতম উদ্ভাবক এবং বিশিষ্ট শিল্পী মাহবুব জামাল শামীম এবারের আয়োজনে নিয়ে এসেছেন নতুন এক দর্শন। এবারের শোভাযাত্রার থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নিত্য নতুনের অমৃতধারা’।

তার মতে, এই উৎসব হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং সর্বজনীন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একটা সময় মঙ্গল শোভাযাত্রাকে নির্দিষ্ট বলয়ে আটকে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু যশোর সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। শামীম বলেন, আমরা চাই এই উৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মিলনমেলায় পরিণত হোক। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আমাদের বার্তা থাকবে স্পষ্ট পৃথিবী মিসাইল আর বোমায় নয়, বরং সবুজে আর সুফলা শান্তিতে ভরে উঠুক।

যশোরের চারুতীর্থের শিক্ষক নীলজয় বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে বাঙালিয়ানা উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি। মুকুট থেকে শুরু করে লোকজ অনুষঙ্গ সবকিছুতেই থাকবে মাটির ঘ্রাণ।

সব মিলিয়ে, বৈশাখের প্রথম ভোরে যশোরের রাজপথ রঙিন হয়ে উঠবে হাজারো মানুষের পদভারে। ঢাকের গুড়গুড় শব্দ আর সানাইয়ের সুরে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সাংস্কৃতিক কর্মীদের এই নিরলস পরিশ্রমের ফসল হিসেবে পহেলা বৈশাখে যশোর পরিণত হবে এক চিলতে শাশ্বত বাংলায়।

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয়