৫ দশকে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মানিক কুমার স্টাফ রিপোর্টার// পাঁচ দশকে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ভোটার তালিকায়ও উঠেছে এসব রোহিঙ্গাদের নাম। আবার এদের কেউ কেউ পাসপোর্ট বানিয়ে পাড়ি দিয়েছেন বিদেশেও। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য।২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক জান্তার নির্যাতনে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সরকারি হিসেবে সবমিলে বিভিন্ন সময়ে দেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন এগারো লাখের বেশি।কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ২ শতাধিক রোহিঙ্গা নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এমন অভিযোগ পেয়েই অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে নির্বাচন কমিশনের কয়েকটি ল্যাপটপ ব্যাবহার করে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫৬ হাজার ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ভোটার বানানো হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা। এ ঘটনায় চলতি জুন পর্যন্ত কক্সবাজারের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রায় একশ’ জনকে আসামি করে ১৮টি মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক শরিফ উদ্দিন।দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘আসামিদের মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখা, জেলা এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণও রয়েছে। ভুয়া পাসপোর্টের বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’এরপর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে গত পাঁচ দশকে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন প্রায় সত্তর হাজার রোহিঙ্গা। এদের একাংশ বাংলাদেশিদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কেও আবদ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গেছেন ত্রিশ হাজারের মতো রোহিঙ্গা।জানা গেছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পৌরসভার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা সদনপত্র এবং জন্ম নিবন্ধন দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ইসির সার্ভার ব্যবহার করে অবৈধভাবে এদের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। আবার এসব রোহিঙ্গাদের যারা এখন বিদেশে তাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিয়ে পাসপোর্ট পেতে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কিছু ব্যাক্তি। এসব অভিযুক্তদের তালিকা করছে দুদক। ড. মোজাম্মেল হক খান আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি এই সকল অভিযোগের তদন্ত দ্রুত শেষ করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন তাদেরকে দুদক আইনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।