মানিক মিয়া স্টাফ রিপোর্টার:- বিক্রয় ডটকমের মার্কেটপ্লেসকে ঘিরে সক্রিয় প্রতারক চক্র। যারা অন্যের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ও ভুয়া ইমেইল ব্যবহার করে খুলছে অ্যাকাউন্ট। তারপর লোভনীয় বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট করছে ক্রেতাদের।
তা দেখে অর্ডার করছেন অনেকেই।কুরিয়ারে পণ্য সরবরাহের বুকিং স্লিপ পাঠিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে নেয় দাম। কিন্তু পণ্যের দেখা পান না ক্রেতা, খুঁজে পান না বিক্রেতাকেও। এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, গেলো চার মাসেই ত্রিশ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে তারা।মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে বাড়ি-গাড়ি কী নেই বিক্রয় ডটকমে। এই অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রতিদিন গড়ে আপলোড হচ্ছে দশ হাজার নতুন বিজ্ঞাপন। দারুণ সব অফারের আড়ালে ওঁৎ পেতে আছে প্রতারকরাও।
কৌশলে ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের দাম হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়াই তাদের কাজ। ভুক্তভোগীরা জানান, বিশ্বাস অর্জন করতে পুলিশ সদস্যও সাজে প্রতারকরা। কুরিয়ার সার্ভিসের লোক পরিচয় দেয়া ব্যক্তিও প্রতারক চক্রের সদস্য।বিক্রয় ডটকমে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিন সদস্যের একটি চক্রকে ধরেছে গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। প্রতারণার উদ্দেশ্যে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম যোগাড় করে ইমেইল অ্যাকাউন্ট খোলে চক্রটি। পরে ভুয়া সিম আর মেইল দিয়ে বিক্রয় ডটকমে অ্যাকাউন্ট খুলে আপলোড করে লোভনীয় বিজ্ঞাপন।
তারপর কৌশলে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আর পণ্য সরবরাহ করেনি চক্রটি। প্রতারকদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে শত শত সিম, সাতশোর বেশি ইমেইল অ্যকাউন্ট ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের বুকিং স্লিপ।গোয়েন্দা বিভাগের (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম) উপ কমিশনার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রতারকরা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে দালালের মাধ্যমে স্লিপ বইগুলো কিনতো। এটাও ভুয়া ছিল। তবে এতে যদি বিক্রয় ডটকমের কেউ জড়িত থাকে এটাও আমরা দেখবো। অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘এই প্রতারণার দায় এড়াতে পারে না বিক্রয় ডটকম, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসেরও রয়েছে গাফিলতি।
প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধেই নেয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।’পুলিশ দায় দেখলেও বিক্রয় ডটকমের দাবি, পণ্য বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত লেনদেন না করার নিয়ম মানছে না অনেক ক্রেতা। তারাই শিকার হচ্ছে প্রতারণার। এছাড়া মার্কেটপ্লেস ঘিরে প্রতারণা ঠেকাতে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি থাকার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিক্রয় ডট কম’র হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, পণ্য বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত লেনদেন না করার নিয়ম মানছে না অনেক ক্রেতা। তারাই শিকার হচ্ছে প্রতারণার। এ্যাডভান্সের মাধ্যমে আমরা কোন কাজ কার না।’তিনি আরও বলেন, ‘মার্কেটপ্লেস ঘিরে প্রতারণা ঠেকাতে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি আরও বাড়াবো। এর চাইতে বেশি কিছু আসলে আমাদের কাছে করনীয় নাই।







