পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি:- পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় এক চা বিক্রেতার হারিয়ে যাওয়া ছাগল নিয়ে তোলপাড় চলছে পুরো উপজেলা জুড়ে। অভিযোগ উঠেছে ছাগলটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর দায়িত্বরতরাই জবাই করে খেয়েছেন। এ ঘটনায় ছাগলের মালিক ইন্দুরকানী থানা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও করেছেন।নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস এবং নাজিরপুর প্রেসক্লাবের কাছেই একটি চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন আব্দুল লায়েক ফরাজী। আর সেখানেই সে চারটি ছাগল পুষেন তিনি।হঠাৎ করে গত শুক্রবার দুপুর থেকে একটি ছাগল হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় এক চামড়া ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছাগলের একটি চামড়া উদ্ধার করেন চা দোকানি লায়েক। এরপর তার মাধ্যমে জানতে পারেন যে, ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী চামড়াটি বিক্রি করেছে। এছাড়া শুক্রবার রাতে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একত্রে মাংস দিয়ে রাতের খাবারও খেয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন ওই চা দোকানি।হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীরা তার ছাগল চুরি করে ভুড়িভোজ করেছে অবিযোগ করে ছাগল মালিক আব্দুল লায়েক ফরাজী বলেন, আমি খুব অসহায় লোক। আমি ৪টা ছাগল পালি। শুক্রবার থেকে একটা ছাগলটা পাইনা। তারপর শুনেছি তারা হাসপাতালে নিয়ে জবাই করে খেয়েছে। মুচির কাছে চামড়াও পাওয়া গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।এক প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারীও হাসপাতালের ভিতরে ছাগল জবাই করার বিষয়টি স্বীকার করেছে।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওই কর্মচারী বলেন, আমি আসার পর চমন, শাহীনসহ আমরা একটা ছাগল ধরে নিয়ে আসি। পরে জবাই করে রান্না করি। পরে রাতে এসে খাই। খাওয়ার সময় স্যাররা সহ অনেকেই ছিল। খাওয়া শেষে আমাকে কিছু দিয়েছে আমি বাসায় নিয়ে গিয়েছি।প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, জুমার নামাজের সময় তারা একটা ছাগল নিয়ে বাথরুমে রাখে। তারপর তারা ছাগলটাকে জবাই করে। তারা ১ ঘণ্টা ধরে ছাগলের গোশত কাটে।এদিকে, শুক্রবার সারাদিন নাজিরপুর ছিলেন না বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফজলে বারী। তবে নিজের বাড়ি যশোর থেকে ফেরার সময় রাতে রান্না করা মাংস সঙ্গে এনেছিলেন এবং সেগুলোই হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে খেয়েছেন বলে দাবি তার।তিনি বলেন, কি ঘটেছে ও যা ঘটেছে এর সঙ্গে আমি জড়িত নই।এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুজ্জামান জানান, অভিযোগকারী জেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।







