সড়কে ‘কাঠামোগত হত্যা’র দায় কার

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

কাকলি সুলতানা স্টাফ রিপোর্টার:-শত আন্দোলন-প্রতিবাদের পরও থামছে না সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনা। সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতিও একই। নগরীর চাষাড়া এলাকার সড়কে নিত্য ঝরছে প্রাণ।

এসব ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা বলছেন, এভাবে নিহতের ঘটনাকে কোনোভাবেই দুর্ঘটনা বলা ঠিক নয়। এভাবে মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের শামিল’। নিহতদের স্বজনরা ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তুলছেন, এই কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডে দায় নেবে কে?

সর্বশেষ শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) শহরের চাষাড়া এলাকার ডাক বাংলোর মোড়ে একটি দ্রুতগামী ইটবাহী ট্রাকের চাপায় অটোরিকশা আরোহী বাবা-মেয়ের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন সোনারগাঁয়ের সম্ভুপুরা ইউনিয়নের আনোয়ারের ছেলে আলতাফ (৪৫) ও তার মেয়ে বেলী (১৬)। ঘটনার পরপরই ট্রাকটিকে জব্দ করে পুলিশ। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন রিকশাচালক। নিহতরা আমেরিকা প্রবাসী। তারা আমেরিকা থেকে মাত্র ২০ দিন আগে দেশে ফিরেছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হচ্ছে।ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, ‘ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে। সবার চোখে পানি।

মেয়েটির মা শুধু কাঁদছেন। কোনোভাবেই মাকে থামানো যাচ্ছিল না।’ঘটনাস্থলে উপস্থিত পথচারীরা বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে অনেক শিক্ষার্থী আসা-যাওয়া করে। সামনে তুলারাম কলেজ। এটা কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। চাষাড়ায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এই সড়ক কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের রাস্তা।’এদিকে চাষাড়া কলেজ রোডে ট্রাকচাপায় বাবা-মেয়ের নিহত হওয়ার ঘটনায় কলেজ রোডে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ ছাত্র ফেডারেশন। বিবৃতিতে ছাত্র ফেডারেশন জেলা সভাপতি ইলিয়াস জামান ও সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মুনা বলেন, ‘প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার শিক্ষার্থী আসা-যাওয়া করেন এই কলেজ রোডে। তোলারাম কলেজে যাওয়ার প্রবেশপথ এই ত্রিমুখী সড়ক।

কিন্তু এই ব্যস্ততম সড়কের নিরাপত্তার ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা নেই। কালেভদ্রে ট্রাফিক পুলিশের দেখা মেলে।’ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা আরও বলেন, ‘এই সড়কে আজ ট্রাকচাপায় বাবা-মেয়ের এই নির্মম মৃত্যু প্রমাণ করে, কতটা অনিরাপদ ব্যবস্থাপনায় চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

যেখানে ন্যূনতম কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বালাই নেই, সেখানে মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে দেওয়াটা অপরাধের শামিল। এই মৃত্যু কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের শামিল। আমরা এই মৃত্যুর মিছিলের অবসান চাই। কলেজ রোডসহ নারায়ণগঞ্জের অন্য সব সড়কের সুষ্ঠু নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা চাই। এই কলেজ রোডে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে দাবি জানাই।