বিপিএল মিরাজের চট্টগ্রামকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মুশফিকের খুলনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

ওসামম চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংবাদদাতা:- ঢাকা পর্বের পর বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বেও অব্যাহত ক্রিকেটারদের বৈচিত্রময় উদযাপন। প্রথম ম্যাচের দুই ইনিংসেই দেখা মিললো ভারতীয় সিনেমা পুস্পার সিগনেচার স্টেপ।

তবে, ম্যাচের শেষ পর্যন্ত উদযাপনের উপলক্ষ্যটা ধরে রাখতে পেরেছে খুলনা টাইগার্স। চট্টগ্রাম চ্যলেঞ্জার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মুশফিকের দল।মাঠের লড়াই পেছনে ফেলে বিপিএলের অষ্টম আসরে আলোচনার শীর্ষে ক্রিকেটারদের সেলিব্রেশন।

ঢাকা পর্বে নাজমুল অপুর পর, ভারতীয় সিনেমা পুস্পার অনুকরণে সেলিব্রেশন করতে দেখা গিয়েছিলো সাকিব আল হাসানকেও। চট্টগ্রাম পর্বের সেলিব্রেশন যেন ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকা পর্বকেও। প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামের ব্যাটার মেহেদী মিরাজকে প্যাভেলিয়নে ফিরিয়ে পুস্পার আরো একটি নাচের ভঙ্গিতে উদযাপনে মাতেন খুলনার শেখ মেহেদী।

তবে সিগারেট সদৃশ কিছু পকেট থেকে বের করে তার এই উদযাপন সৃষ্টি করেছে বিতর্কও। চট্টগ্রামও বা কম যায় কিসে? খুলনার ওপেনার সৌম্য সরকারকে ১ রানে ফিরিয়ে দলবল নিয়ে একই মুভির আরেকটি গানের স্টেপে দেখা গেলো শরিফুলকেও। তবে উদযাপনের উপলক্ষ্যটা ম্যাচের শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে পারেনি শরিফুলরা।

ফ্লেচার -মুশফিকের ব্যাটিং নৈপুণ্যে চট্টগ্রামের দেয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য ৬ উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায় খুলনা।জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আফিফের ৪৭ রানের পর, নাইম ইসলামের ২৫ রানে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।জবাবে ব্যাট করতে আন্দ্রে ফ্লেচারের ৫৮ রানের পর, মুশফিকের অপরাজিত ৪৪ রানে ভর করে ৭ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে নোঙ্গর করে খুলনার তরী।

আজ (শুক্রবার) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে স্কোর বোর্ডে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রানের পুঁজি পায় চট্টগ্রাম। এই লক্ষ্য টপকাতে নেমে একেবারেই বেগ পেতে হয়নি খুলনাকে।মুশফিকের রানে ফেরার দিনে অর্ধশতকের স্বাদ পেয়েছেন আন্দ্রে ফ্লেচার। এতে ৬ উইকেট ও ৭ বল হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছে খুলনা। টুর্নামেন্টে ৩ ম্যাচে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়।যদিও ওপেনিং জুটিটা ভালো হয়নি খুলনার। করোনা মুক্ত হয়ে দলে ফেরা সৌম্য সরকার আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শরিফুলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন বেনি হাওয়েলের হাতে। সৌম্য ফেরেন ১ রান করে। দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলের শুরুর ধাক্কাটা সামাল দেন আগের ম্যাচে মাথায় চোট পাওয়া ফ্লেচার ও তিনে নামা রনি তালুকদার। রনি ১৮ বলে ১৭ রান করে নাসুমের শিকারে পরিণত হলে ভাঙে এই জুটি। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে ৪৬ রানের পার্টনারশিপের পথে ফিফটি তুলে নেন ফ্লেচার। তার ৫৮ রানের ইনিংসটি থামান মিরাজ। ৪৭ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান ফ্লেচার।

এই ক্যারিবীয় দলীয় ৯৮ রানে আউট হলেও বেগ পেতে হয়নি খুলনাকে। ততক্ষণে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে খুলনা। আগের ২ ম্যাচে রান খরায় ভোগা মুশফিক এদিন পেয়েছেন রানের দেখা। দলের জয় ১ রান বাকি থাকতে প্রসন্ন আউট হন ১৫ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে। পর মুশফিকের ৩০ বলে অপরাজিত বলে ৪৪ রানের কল্যাণে ৬ উইকেট ও ৭ বল হাতে রেখে জয় পায় খুলনা। মুশফিক নিজের ইনিংসটি সাজান ৪টি চারের ও ১টি ছয়ের মারে। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

তবে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মাত্র ১ রান করে নাবিল সামাদের বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন কেনার লুইস। দ্বিতীয় উইকেট ওপেনার উইল জ্যাকসের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন আফিফ হোসেন। তাদের যৌথ চেষ্টায় পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ৪৭ রান জমা করে চট্টগ্রাম। দলকে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে জ্যাকস ২৩ বলে ২৮ রান করে আউট হন পেরেরার বলে ইনসাইড এজ হয়ে।

এতে ৫৭ রানের জুটি দুজনের। সুবিধা করতে পারেননি সাব্বির রহমান। তাকে শিকার করেন সেকুগে প্রসন্ন। সাব্বির ফেরেন ৪ রান করে। আফিফের সাথে ১৯ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শেখ মেহেদীকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন চট্টগ্রামের অধিনায়ক। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেনি হাওয়েল পেরেরার বলে তার হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। এদিন তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫ রান। তবে অন্যপ্রান্তে রান তোলার কাজ ঠিকঠাক করতে থাকেন আফিফ। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে এই বাঁহাতি ফেরেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৪ রান করে।

৩৭ বলের ইনিংসটি আফিফ সাজিয়েছেন ৩টি চার ও ২টি ছয়ের মারে। ফরহাদ রেজাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মেহেদীর দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরের পথ ধরেন আফিফ। শামীম পাটোয়ারি রান করতেই যেন ভুলে গেছেন। আজ তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান। শেষদিকে নাঈম ইসলামের ১৯ বলে অপরাজিত ২৫ রান ও শরিফুল ইসলামের ৬ বলে ১২ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে চট্টগ্রামের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৪৩ রান। খুলনার পক্ষে পেরেরা ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচ করে নেন ৩টি উইকেট