ইসি কোন পেশার হলে দক্ষ হন?

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মানিক মিয়া স্টাফ রিপোর্টার:- সাবেক বিচারপতি নাকি অবসরপ্রাপ্ত সচিব? নাকি অন্য কোন পেশার মানুষ? প্রধান নির্বাচন কমিশনার কোন পেশার মানুষ হলে ভালো হয়?

বিশ্লেষকরা বলছেন, পেশা মূখ্য বিষয় নয়, মানুষ হিসেবে সৎ, দক্ষ এবং অকুতোভয় কিনা সেটিই মূখ্য বিষয়। কারও মতে নির্বাচন কমিশনকে শুধু শক্তিশালী হলেই হবে না, নির্বাচনকালীন সরকারের আচরণও নিরপেক্ষ হতে হবে।

আবার কারও মতে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হলে নির্বাচনকালীন সরকার কোন বিষয় নয়।স্বাধীনতা পরবর্তী সময়কালে এখন পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ১২ জন। যার মধ্যে ৭ জনই ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, বাকি ৫ জন অবসরপ্রাপ্ত সচিব।

বাংলাদেশে যেসব জাতীয় নির্বাচন কম প্রশ্নবিদ্ধ বলে মানুষের কাছে পরিচিত তার বেশিরভাগ কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সাবেক আমলা। তার মানে কি আমলারাই এ কাজে দক্ষ হন?বিশ্লেষকরা এমন পরিসংখ্যানের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে পেশা কোন বিষয় নয়।শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান বলেন, এটা কোনভাবেই বিচারপতি, প্রাক্তন বিচারপতি, কিংবা প্রশাসনের ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়।

গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থাকে কায়েম করার স্বার্থে যারাই আসবেন তারা এখানে তাদের দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।সুশাসনের জন্য নাগরিক এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যিনি সুনামসম্পন্ন ব্যক্তি, যার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে তার জীবনযাত্রা প্রণালী সঙ্গতিপূর্ণ, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই, যিনি সাহসী ও সৎ বলে পরিচিত, সেই ধরনের ব্যক্তি।

প্রশাসন থেকে আসুক, বা বিচারালয় থেকে আসুক কিছু আসে যায় না। সঠিক ব্যক্তি হওয়া দরকার।শুধু নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হলেই কি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে? এমন প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত মত বিশ্লেষকদের।বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, সঠিক ব্যক্তিদের নিয়ে, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে, সুনামসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বঅচন কমিশ গঠন করা প্রথম ধাপ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নির্বাচনকালীন সরকার।

সেটা যদি নিরপেক্ষ না থাকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন যদি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চায় তাহলে সুুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনে যে আইন বিদ্যমান সেই আইনে কিন্তু প্রচুর ক্ষমতা দেয়া আছে। সুতরাং কমিশনকে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। এখানে তাদের শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করে দায়বদ্ধ হয়ে থাকা যাবে না।

রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জনের নাম প্রস্তাবের আগে সার্চ কমিটির তা প্রকাশ করা উচিত কিনা এ নিয়েও রয়েছে একাধিক মত।অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান জানান, এটা প্রকাশ করলেও যা, প্রকাশ না করলেও তাই। খুব বেশি যে এটার গুরুত্ব হেরফের হবে আমার তা মনে হয় না।

বদিউল আলম মজুমদার জানান, তারা যে ৫০ জনের শর্টলিস্ট করেছে সেটা প্রকাশ দরকার। এবং তারা কাদের কাদের নাম প্রস্তাব করেছে সেটাও প্রকাশ দরকার।সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত ১০ জনের মধ্যে ৫ জনকে বেছে নিয়ে রাস্ট্রপতি গঠন করবেন ১৩তম নির্বাচন কমিশন।