Jashore , Sunday, 25 October 2026
সর্বশেষ:
জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির প্রকাশ্যে চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন এক দলের প্রধান নেতা: রাশেদ খাঁন যশোরে ফুলকুঁড়ি আসরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ যশোরে বিশ্ব পোলিও দিবসে বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‌্যালি টানা ১৮তম বার দ্রুততম মানবী যবিপ্রবির শিরিন আক্তার শ্যামকুড় মাধ্যমিকের এসএসসি ২০১৯ ব্যাচের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২ যশোরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন যশোরে জাতীয় পার্টির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ যশোরে ইয়াবাসহ ‘আইনজীবী সহকারী’ ও আলোচিত লাবনী গ্রেপ্তার

২৫ মার্চ কাল রাত বিশ্বের ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের রাত

নিজস্ব প্রতিবেদক:- বিশ্বের ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের রাত ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাত- বিশ্বের ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের রাত।

পাকিস্তানি সেনারা নিরস্ত্র বাঙালীকে নিধন করতে চালায় নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ। যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা। এক রাতে মাত্র কয়েকঘন্টায় জীবন দেন হাজার হাজার নিরস্ত্র মুক্তিকামী মানুষ।

সেই রাতেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞের সেই কাল রাতে শহীদদের স্মরণে নেয়া হয়েছে নানান কর্মসুচি।৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা পেয়ে মুক্তিকামী বাঙ্গালী বেছে নেয় তাদের পথ।

মুক্তিকামী বাঙ্গালীর শ্লোগান তখন একটাই- বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর। অবস্থা বুঝতে পেরে ১৫ মার্চ মিছিলের নগরী ঢাকায় আসেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। বৈঠকে বসেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে।তিনদিন পর ১৯ মার্চ ঢাকার উপকন্ঠে গাজীপুরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ করে এদেশের মানুষ।

২০ মার্চ ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল হামিদ খান, পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসক টিক্কা খান, জেনারেল পীরজাদা, জেনারেল ওমরসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরী বৈঠক করেন। সেখানেই ২৫ মার্চ রাতের ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অনুমোদন করা হয়।

পরদিন বঙ্গবন্ধু ধানমণ্ডির বাসভবনে সমবেত জনতার উদ্দেশে স্পষ্ট ঘোষণা করেন, ‘বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অহিংস অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই দিনে ইয়াহিয়ার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পঞ্চম দফা বৈঠক হয়।

আর ভুট্টোর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। ২২ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আবারো স্থগিত ঘোষণা করেন। সকল দৈনিক পত্রিকায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রকাশ করা হয়।২৩ মার্চ রাজনৈতিক আলোচনা ভেঙ্গে যায়। সারাবাংলায় মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে পালিত হয় প্রতিরোধ দিবস।

২৪ মার্চ আন্দোলনকারিদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর দিক নির্দেশনা ‘আর আলোচনা নয়, এবার চাই ঘোষণা। ‘২৫ মার্চ ৩২ নম্বর বাসভবনে নামে জনতার ঢল। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন বিশ্বের কোন শক্তিই সাড়ে সাত কোটি মানুষের দাবি নস্যাৎ করতে পারবে না।

যদি কেউ রক্তচক্ষু দেখায় তা নিশ্চিহ্ন করে দেবো। এদিনেই বিদেশি সাংবাদিকদের ঢাকা ত্যাগ করতে বলা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে শুরু হয় বিশ্বের নৃশংসতম গণহত্যা।

হিংস্র শ্বাপদের মতো জলপাই রঙের ট্যাংকগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ-ইপিআর ব্যারাকের দিকে অনবরত হামলা করতে থাকে।

ঘুমন্ত বাঙ্গালীকে হত্যা করে নির্বিচারে। গ্রেপ্তারের আগ মুহুর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু।

প্রতিরোধ যুদ্ধও শুরু এ রাত থেকেই। যা চলে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় পর্যন্ত।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 09:22 am, Friday, 25 March 2022
26 Time View

২৫ মার্চ কাল রাত বিশ্বের ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের রাত

Update Time : 09:22 am, Friday, 25 March 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক:- বিশ্বের ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের রাত ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাত- বিশ্বের ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের রাত।

পাকিস্তানি সেনারা নিরস্ত্র বাঙালীকে নিধন করতে চালায় নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ। যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা। এক রাতে মাত্র কয়েকঘন্টায় জীবন দেন হাজার হাজার নিরস্ত্র মুক্তিকামী মানুষ।

সেই রাতেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞের সেই কাল রাতে শহীদদের স্মরণে নেয়া হয়েছে নানান কর্মসুচি।৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা পেয়ে মুক্তিকামী বাঙ্গালী বেছে নেয় তাদের পথ।

মুক্তিকামী বাঙ্গালীর শ্লোগান তখন একটাই- বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর। অবস্থা বুঝতে পেরে ১৫ মার্চ মিছিলের নগরী ঢাকায় আসেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। বৈঠকে বসেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে।তিনদিন পর ১৯ মার্চ ঢাকার উপকন্ঠে গাজীপুরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ করে এদেশের মানুষ।

২০ মার্চ ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল হামিদ খান, পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসক টিক্কা খান, জেনারেল পীরজাদা, জেনারেল ওমরসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরী বৈঠক করেন। সেখানেই ২৫ মার্চ রাতের ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অনুমোদন করা হয়।

পরদিন বঙ্গবন্ধু ধানমণ্ডির বাসভবনে সমবেত জনতার উদ্দেশে স্পষ্ট ঘোষণা করেন, ‘বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অহিংস অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই দিনে ইয়াহিয়ার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পঞ্চম দফা বৈঠক হয়।

আর ভুট্টোর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। ২২ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আবারো স্থগিত ঘোষণা করেন। সকল দৈনিক পত্রিকায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রকাশ করা হয়।২৩ মার্চ রাজনৈতিক আলোচনা ভেঙ্গে যায়। সারাবাংলায় মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে পালিত হয় প্রতিরোধ দিবস।

২৪ মার্চ আন্দোলনকারিদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর দিক নির্দেশনা ‘আর আলোচনা নয়, এবার চাই ঘোষণা। ‘২৫ মার্চ ৩২ নম্বর বাসভবনে নামে জনতার ঢল। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন বিশ্বের কোন শক্তিই সাড়ে সাত কোটি মানুষের দাবি নস্যাৎ করতে পারবে না।

যদি কেউ রক্তচক্ষু দেখায় তা নিশ্চিহ্ন করে দেবো। এদিনেই বিদেশি সাংবাদিকদের ঢাকা ত্যাগ করতে বলা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে শুরু হয় বিশ্বের নৃশংসতম গণহত্যা।

হিংস্র শ্বাপদের মতো জলপাই রঙের ট্যাংকগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ-ইপিআর ব্যারাকের দিকে অনবরত হামলা করতে থাকে।

ঘুমন্ত বাঙ্গালীকে হত্যা করে নির্বিচারে। গ্রেপ্তারের আগ মুহুর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু।

প্রতিরোধ যুদ্ধও শুরু এ রাত থেকেই। যা চলে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় পর্যন্ত।