মেহেদী হাসান বিশেষ প্রতিনিধি// যিনি পরীক্ষার্থী তিনিই আবার প্রশ্নপত্র প্রস্তুতে সহায়তা করেছেন। পরীক্ষায় পাশ করেছে তার আত্মীয় স্বজনও।
এমন অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে ১২ শ’ ৫০ জনবল নিয়োগ পরীক্ষায়।আবার যারা পাশ করেছেন তাদের বেশির ভাগই এই অধিদপ্তরে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করা পিয়ন ও বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বজন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাস্টাররোলে কর্মরত অনেকে। তারা বলছেন, অর্থের বিনিময়ে স্বজনপ্রতি দেখিয়ে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা।
২০১৫ ও ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে ১২৫০ জন জনবল নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। তবে, বিপত্তি দেখা দিয়েছে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিবের কম্পিউটার অপারেটর হাসিবও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায়। যে নিজেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজে জড়িত ছিল। শুধু তাই নয় পাশ করেছে তার বেশ কয়েকজন আত্মীয়।
এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, হাসিব একজন পরীক্ষার্থী হলেও তাকে সার্ভার এডমিন করে দেন নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন হাসিব ও তার লোকজন।প্রত্যক্ষদোষী একজন বলেন, ‘অফিসে তারা প্রশ্নপত্র ছাপানো মানে ওখানে যারা অফিসের লোক ছিল। দেখা যাচ্ছে তারা পরীক্ষায় টিকে গেছে। যে তার নাম লিখতে কলম ভেঙ্গে যায় দু’বার, সে কিভাবে টিকলো।’অভিযোগ উঠেছে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বেশীর ভাগ প্রার্থী এই অধিদপ্তরে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, পিয়ন ও তার আত্মীয় স্বজন। যাদের বেশিরভাগই মৌখিক পরীক্ষায় কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। টাকার বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতি দেখিয়ে চাকরি দেয়া হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।ভুক্তভোগী একজন বলেন, ‘এডমিট কার্ড নিয়ে দৌড়াদড়ি করছে যারা, তাদেরই স্বজনরাই পরীক্ষায় রোল আছে এবং চাকরি পেয়েছে।’একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কতটা উদাসীন হলে পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্র তৈরিতে কাজে লাগান এ প্রশ্ন অনেকের। তবে তা উদাসীনতা নাকি ইচ্ছাকৃত তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে, প্রকৌশলীদের সংগঠন।শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হয়ত উনারা সরল বিশ্বাসে কিছু লোকজনকে কাজে লাগিয়েছে। কম্পিউটারে ভাল পরীক্ষার্থী। রেজাল্টের পরে দেখা গেল যে, পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা ছিল তাদের কিছু আত্মীয় স্বজনরা পাশ করেছে।‘এদিকে, বিষয়টি আলোচনা শুরু হলে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান একটি পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। তিনি ফোনালাপে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র প্রণনয়ন বলেন, অথবা পরবর্তীতে ব্যবহারিক পরীক্ষা বলেন, এই সবগুলো একটা কমিটির মাধ্যমেই করা হয়েছে। এবং এগুলো পরিচালকের হেফাজতে রাখা ছিল। যে অভিযোগগুলো আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সেগুলো অসত্য।‘আর নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন রাহেদ হোসেন জানান, অধিদপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারিদের আত্মীয়স্বনের বিষয়টি তাদেরও নজরে এসেছে।দুর্নীতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আসলে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।




