দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রানকেন্দ্রে থেকেও দালালি অফিসে পরিনত হয়েছে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়।
একাধিক ভূক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘুরে দেখা যায় অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় দালাল চক্র তৈরী হয়েছে এই অফিসে।
যারা নিয়ন্ত্রন করে নতুন ভোটারদের এনআইডি কার্ডের আবেদন, নতুন ভোটারদের ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ছবি তোলা, এনআইডি কার্ড সংশোধন, এনআইডি কার্ড স্থানান্তর, স্মার্ট কার্ড পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ড টাকার বিনিময়ে করে থাকে এই চক্র। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নির্বাচন অফিস ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে অফিস সহায়ক মাহাবুব হোসেন মাসুম এই দালাল চক্রের মুল হোতা।
যে কিনা দীর্ঘ লাইনে না দাড়িয়েও একটি স্মার্ট কার্ড পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১ থেকে ২ হাজার কোন কোন ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা দাবী করেন। আর যে সকল এনআইডি কার্ডধারীদের এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেছে তারা তো এই অফিসের খরিদ্দারে পরিনত হয়ে যায় দালাল চক্রের কাছে। যার কাছে যেমন করে পারে বাগিয়ে নেই টাকা।
তেমনি একজন ভূক্তভোগী গার্মেন্টস কর্মী ফরহাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত ৭তারিখ বৃহস্পতিবার অফিস সহায়ক মাহাবুব হোসেন এর কাছে আমার স্মার্ট কার্ড নেওয়ার জন্য ১৮’শ টাকা দিয়েছি কার্ড হাতে পাওয়ার পর আরোও ২’শ টাকা চেয়েছেন তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার স্মার্ট কার্ড হাতে পায়নি।
আজ এক সপ্তাহ হয়ে গেলো আজকে যদি না দেয় তাহলে তাকে হেস্তনেস্ত করে ছাড়বো। স্মার্ট কার্ড নেওয়ার জন্য এমন অসৎ উপায়ে টাকা কেন দিলেন এমন প্রশ্ন করলে ভূক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, প্রথমদিন কার্ড নিতে এসে শুনেছি আমার কার্ড তৈরী হয়নি।
কিন্তু যখন বলেছি কিছু একটা করেন আমার জন্য, তখন অফিস সহায়ক মাহাবুব আমার নিকট টাকা দাবী করেন আর তখন বাধ্য হয়ে তাকে টাকা দিয়েছি বলেন জানান ঔ ভূক্তভোগী।এদিকে অফিসের অসাধু কর্মচারীদের সহায়তায় দালাল চক্র গড়ে উঠার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম আজম জানান, আমার অফিসের কোন কর্মচারী যদি জড়িত থাকে তাহলে তার ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আপনার কার্যালয়ে আপনার সাথে বহিরাগত কিছু লোক এনআইডি কার্ডের মত স্পর্শকাতর জিনিস থাকা গোডাউনে কি করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতো বড় একটি উপজেলায় লোকবল কম থাকায় কিছু কিছু সময় বাইরের লোক দিয়েও কাজ চালিয়ে নিতে হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।







