পাট নিয়ে বিপাকে সারা দেশের কৃষকরা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

নিজস্ব প্রতিবেদক// সোনালি আঁশ পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সারা দেশের কৃষকরা। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না। ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই।

অধিকাংশ খাল, বিল, ডোবা ও জলাশয়ে পানি নেই এবারে। যেটুকু পানি আছে তা পাট পঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

ভরা বর্ষা মৌসুমেরও প্রত্যাশিত বৃষ্টি হচ্ছে না। বিগত ৪২ বছরের মধ্যে আষাঢ়- শ্রাবণ মাসে এতো কম বৃষ্টিপাত হয়নি বলে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, ২০২১ সালে জুন-জুলাই মাসে কুষ্টিয়া সহ আশেপাশের জেলাগুলোর গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১১.৭৫ মিলিমিটার।

আর ২০২২ সালে দুই মাসে গড় বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২.৫৫ মিলিমিটার। অর্থাৎ শতকরা হিসেবে গত বছরের তুলনায় এবারে ৭৮.৩০ভাগ কম বৃষ্টি হয়েছে।

সামর্থ্যবান কৃষকরা শ্যালো মেশিন দিয়ে পুকুরে পানি সেচ দিয়ে পাট জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। সামর্থ্যহীন কৃষকরা পানির অভাবে জমি থেকে পাট কাটতে পারছেন না।

জমিতে পাটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির আশায় পাট কেটে জমিতে ফেলে রেখেছে অনেকেই। অনেকে বাড়ি বা সড়কের পাশের ডোবা, খাল ও জলাশয়ের হাঁটু পানিতে বালির বস্তা চাপা দিয়ে পাট পচানোর জন্য জাগ দিচ্ছেন।

এদিকে জেলার বিভিন্ন এলকা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।এরআগে বেশীরভাগ পাটের জমিতে আখ ও ধোনছে চাষ করা হতো।

পাটের উচ্চ মূল্য থাকায় যশোরে আগের চেয়ে পাট চাষ বেড়ে গেছে।

এদিকে পানির অভাবে আমনের রোপণও পিছিয়ে যাচ্ছে। পাট কেটে ওই জমিতেই আমন ধানের চারা রোপন করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামড়হুদা উপজেলা পাট কেটতে না পারলে রোপন পিছিয়ে যাবে ফলে আমনের ফলন কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে জানান কৃষি অফিস।

কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরে ঘোড়ামারা কৃষক এনামুল হক বিশ্বাস জানান, তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু এবার পানি না থাকায় জমিতে ছোট করে গর্ত করে হাঁটু পানিতে বালির বস্তা চাপা দিয়ে পাট জাগ দিতে বাধ্য হয়েছি।

বিভিন্ন মাছ চাষ পুকুরে পাটের জাগ দেয়া হচ্ছে এ কারণে পুকুরের মাছ মারা গেছে। ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড় ইউনিয়নের কৃষক হাসান আলী জানান, এ বছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছি দুঃখের বিষয় পাট জাগ দেয়ার মত সামান্য পানিও নাই চরম বিপাকে আছে।

এ দিকে মাগুরায় মোহম্মদপুর উপজেলা কৃষক আব্দুল কাদের বলেন ফলনও ভালো হয়েছে।কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না।

রাজবাড়ী কিছু এলাকায় গত বছর পাটের দাম বেশি পাওয়ায় চলতি বছর পাটের আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন এলাকার কৃষকরা।

নির্বিঘ্নে পাটের আবাদ হলেও এখন পাট কাটা ও জাগ দেওয়া নিয়ে মহাবিপদে পড়েছি।

যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানির অভাবে এখনও যেমন ক্ষেতের পাট কাটা হচ্ছে না, তেমনি আমনের চারা রোপণও পিছিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আমরা পড়েছি চরম বিপাকে।

এ দিকে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া কৃষক শ্রী হরেন্দ্র দাস বলেন পাটের আবাদ অনেক বেড়েছে আমি নিজে ৫ বিঘা জমি পাট আবাদ করেছি।

মেহেরপুর গাংনী উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানির অভাবে জমিতে এখনও অনেক পাট রয়ে গেছে।

চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, নাটোরে,পাবনা, ঝিনাইদহ,যশোর সহ আরো কিছু জেলায় কৃষকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। সরকারি জলমহালে পাট জাগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমনের চারা রোপন পিছিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সময় মতো আমন ধান চাষ না হলে উৎপাদনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।