বিয়ে বাড়িতে পরিচয়, তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

‌ওসামম কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:- বিয়ে বাড়িতে চলছে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। চারদিকে হইহুল্লোড় আর সরগরম আয়োজন। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানে আসা স্কুলশিক্ষিকার সঙ্গে পরিচয় হয় বেদার মিয়ার। আলাপচারিতার ফাঁকে সেখানে যোগ দেন আরও তিন-চার যুবক।

তারাও পরিচিত হন ওই শিক্ষিকার সঙ্গে। পরদিন সকাল ৭টার দিকে ওই স্কুলশিক্ষিকা ইজিবাইকে বাড়ি ফেরার পথে ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার ব্রিজ এলাকায় পথরোধ করে বেদার মিয়াসহ রাতে পরিচিত ওই ‍যুবকরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে আরেকটি গাড়িতে তুলে নেয়।

পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চান্দের পাড়ার নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে বেদারসহ চারজন মিলে ওই স্কুলশিক্ষিকাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় সোমবার (২২ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলা করলে প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন দফতরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের সহকারী পরিচালক (এএসপি) নিত্যানন্দ দাশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা ইউনুছঘোনা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে বেদার মিয়া (২৮), একই ইউনিয়নের উত্তর তারানিয়াপাড়ার দিল মোহাম্মদের ছেলে মোস্তাক মিয়া (২৪) ও ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া এলাকার মৃত রশিদ আহমেদের ছেলে মো. বেলাল উদ্দিন (২২)।

ভুক্তভোগী নারী (২৫) রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের মালিপাড়ায় এক আত্মীয়র বাড়িতে হায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যান ওই শিক্ষিকা। সেখানে তার সঙ্গে বেদার মিয়াসহ আরও ৩-৪ যুবকের পরিচয় হয়।

পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় ইজিবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন ভুক্তভোগী ওই নারী। তাকে বহনকারী গাড়িটি ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে বেদার মিয়াসহ সহযোগীরা তার গতিরোধ করে।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে আরেকটি গাড়িতে তুলে নেয়। পরে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চান্দের পাড়ার নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে বেদারসহ চারজন মিলে ওই তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন।ওই মামলায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে বেদার মিয়াকে (২৮) প্রধান আসামি করা হয়।

এ ছাড়া আরও তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে আসতে সময় লাগবে।

ভুক্তভোগী নারী এখন নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।র‌্যাবের সহকারী পরিচালক নিত্যানন্দ দাশ জানান, স্কুলশিক্ষিকাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত ঘটনায় মামলা করার পর থেকে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাবও ছায়াতদন্ত শুরু করে।

একপর্যায়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মামলার প্রধান আসামি বেদার মিয়া নিজ এলাকায় অবস্থান করার খবরে র‍্যাবের একটি দল অভিযান চালায়।

এতে সন্দেহজনক বাড়িটি ঘেরাও করলে এক ব্যক্তি কৌশলে পালানোর চেষ্টা চালায়। পরে ধাওয়া দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।