রোগী মারা যাওয়া পর্যন্ত কমিশন ঢোকে তাদের পকেটে

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

অনলাইন ডেস্ক:- রোগী গুরুতর অসুস্থ। নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হবে এখনই। কিন্তু আইসিইউ খালি নেই। আইসিইউর জন্য দেওয়া হয় সিরিয়াল।

দিনের পর দিন যায়, সপ্তাহও পার হয়ে যায়, মেলে না আইসিইউ। এ পর্যায়ে চিত্রনাট্যে হাজির হন তারা; বলেন, ‘ব্যবস্থা’ আছে। এই ‘তারা’ হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কর্মচারী আর বহিরাগত দালাল।

দ্রুত নিতে হবে, না হয় রোগী মারা যাবে’— এমন ভয় দেখিয়ে তারা রোগী ভাগিয়ে নেন বেসরকারি হাসপাতালে। ওই রোগী যতক্ষণ সেই হাসপাতালে থাকবে ততক্ষণ তাদের পকেটে ঢুকতে থাকবে কমিশনের টাকা। রোগী সুস্থ হোক বা মারা যাক, ছাড়পত্র নেওয়ার আগ পর্যন্ত চলতে থাকে এ প্রক্রিয়া।

এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন তথ্য।সর্বশেষ ভরসা হিসেবে সারা দেশ থেকে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে আসা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এদের মধ্যে অধিকাংশেরই আইসিইউ সাপোর্টের দরকার হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত আইসিইউ শয্যা। এ কারণে দরকার হলেও প্রায়ই আইসিইউ শয্যা পান না রোগীরা।বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে ৮৬টি আইসিইউ এবং ৩০টি হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) রয়েছে। এর মধ্যে নন-কোভিড আইসিইউ ৩২টি, কোভিড আইসিইউ ১০টি, নবজাতকের জন্য এনআইসিইউ ৩৮টি এবং পেডিয়াট্রিক (শিশু) আইসিইউ আছে ছয়টি।

এ সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। হাসপাতালের একটি অসাধু চক্র এ সংকট কাজে লাগিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে রোগীদের পাঠিয়ে দেয় বেসরকারি হাসপাতালে। চক্রে জড়িত আছে বহিরাগত কিছু দালাল, সরকারি-বেসরকারি আম্বুলেন্সচালক, ঢামেকের কর্মচারী, আনসার সদস্য, ওয়ার্ড বয় ও ট্রলিম্যান।জানা গেছে, মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে আসার পর তার স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর প্রথম উদ্যোগটা নেন ঢামেকের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্মচারীরা। এছাড়া বহিরাগত দালালরা ২৪ ঘণ্টা শিফটিং ভিত্তিতে ডিউটি করে রোগী স্থানান্তরের কাজটি করেন।ঢামেকে আসা অধিকাংশ রোগী নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য।

চক্রের সদস্যরা এসব রোগীকে টার্গেট করেন। প্রথমে তারা রোগী সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করেন। রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হলে ‘ঢামেকে আইসিইউ শয্যা পেতে মাসখানেক সময় লেগে যাবে’— এমন তথ্য দিয়ে তাদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। অ্যাম্বুলেন্সেরও ব্যবস্থা করেন তারা। রোগীপ্রতি অ্যাম্বুলেন্সচালক বিশেষ কমিশন পান। যতদিন রোগী ওই হাসপাতালে থাকবে দৈনিক অন্তত দুই হাজার করে টাকা পকেটে ঢুকবে তার।অন্যদিকে, যে দালাল রোগী পাঠাবেন, হাসপাতাল বিলের ৪০ শতাংশ পাবেন তিনি। ঢামেকের কোনো কর্মচারী যদি রোগী পাঠান, প্রাথমিকভাবে তাকে হাসপাতাল থেকে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়।

অনেক সময় রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে আট থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পকেটে ঢোকে তার।কমিশনের এ ব্যবসায় দালালরা ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। রোগী পাঠানোর সময় তারা স্বজনের মোবাইল নম্বর রেখে দেন। নিয়মিত তারা রোগীর খোঁজখবর নেন। কত দিন হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে, কবে ছাড়া পাবেন, ছাড়া পেয়েছেন কি না— এসব তথ্য নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝে নেন।