চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:- বালু তোলা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গুলিতে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম খোকনসহ (৪৭) ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মুহুরি সেচ প্রকল্পসংলগ্ন ফেনী নদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ অন্যরা হলেন-হিঙ্গলী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা অশোক সেন (৪৮), ওচমানপুর ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী শহীদ খান দুখু (৩৫) ও যুবলীগ নেতা আশরাফুল আলম। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার মেয়র খোকনসহ তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আর একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন আছেন। হামলার জন্য মেয়র খোকনের অনুসারীরা ফেনীর ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুল হক রিপন ও তার অনুসারীদের দায়ী করেছেন। তবে মজিবুল হক রিপন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে উলটো খোকনকে দায়ী করেছেন।প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, ফেনী নদীর বিভিন্ন স্পট ও কলমির চরে বালু তোলা নিয়ে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারইয়ার হাট পৌর মেয়র রেজাউল করিম খোকন ও ফেনীর ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম খোকনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।
মেয়র খোকনের লোকজন বৃহস্পতিবার বালি তুলতে গেলে রিপন চেয়ারম্যানের লোকজন দুটি বালিবাহী বোট আটকে রাখে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মেয়র খোকন তার অনুসারীদের নিয়ে বোট দুটি ছাড়িয়ে আনতে গেলে রিপন চেয়ারম্যানের ১৫-২০ জন সশস্ত্র অনুসারী তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
এতে মেয়র খোকন ও তার সঙ্গে থাকা ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন।মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. মিনহাজ উদ্দিন জানান, রেজাউল করিম খোকনের পেটে এবং শরীরের কয়েকটি স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুজনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরেকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন আছেন।জানতে চাইলে ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল হক রিপন বলেন, আমি এখানকার বৈধ ইজারাদার। আমার লোকজন গুলি করার প্রশ্নই ওঠে না।
বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র খোকন অবৈধভাবে এখানে বালু তুলছেন। তিনি এসে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। নিজেদের গুলিতেই মেয়র ও তার লোকজন আহত হয়েছেন। কিন্তু দায়ভার আমার ওপর চাপানো হচ্ছে।পৌর মেয়র খোকনের অনুসারী যুবলীগ নেতা রিয়াদ খান বলেন, ফেনী নদীর মীরসরাই অংশসহ সোনাগাজীর অংশে ফাজিলপুর ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার লোকজন দীর্ঘদিন যাবৎ ভ্রাম্যমাণ ড্রেজার ও বোট দিয়ে বালি লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। মীরসরাই এলাকার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোটা বালি সরবরাহ করার জন্য মেয়র খোকন ও তার লোকজনের ওই এলাকায় গেলে রিপন চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করে।
এতে মেয়ার খোকনসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমরা অবিলম্বে রিপন চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীদের গ্রেফতার চাই।সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ খালেদ হোসেন দাইয়্যান বলেন, খবর শোনার পর তাৎক্ষণিক পুলিশ দল নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হই। কিন্তু সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, মেয়র রেজাউল করিম খোকনসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। উল্লেখ্য, ফেনী নদী ও কলমির চরে চট্টগ্রামের মীরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সীমানা লাগোয়া জায়গা। এখানে বালু তোলা ও মাছ চাষ নিয়ে সোনাগাজী ও মীরসরাই উপজেলার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।







