কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পিলাস্তার খসে পড়ে নারীর মাথায় ৭ সেলাই

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:- কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের কেবিনের ছাদের পিলাস্তার খসে পড়ে এক রোগীর স্ত্রী সীমা খাতুনের (৩৮) মাথায় সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে।

স্বামীর সেবা করতে এসে এখন নিজেই রোগী হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।হাসপাতালের দোতলার ৩ নম্বর ভিআইপি কেবিনে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সীমা খাতুনের ছেলে প্রান্ত আলী জানান, তারা কুষ্টিয়া শহরতলীর চৌড়হাস আদর্শপাড়ায় বসবাস করেন। তার বাবা রিপন আলীকে (৪৫) হার্টের সমস্যায় প্রতিদিন তিন হাজার টাকা ভাড়ায় ৬ এপ্রিল রাতে হাসপাতালের ওই কেবিনে ভর্তি করা হয়। পরিচর্যা করতে তার মা প্রায় সার্বক্ষণিক রোগীর পাশে অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় রোববার সকালে হঠাৎ কেবিনের ছাদের পিলাস্তার কিছু অংশ খসে পড়ে মায়ের মাথার ওপর। এতে তিনি জখম হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গিলে মাথার ক্ষতস্থানে সাতটি সেলাই দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

বর্তমানে তার মা-বাবাকে হাসপাতালের স্টাফ কেবিনে রাখা হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগে প্রান্ত দাবি করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরেই এ হাসপাতালের দোতলার ওয়ার্ডগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। লেবার ওয়ার্ডসহ দোতলার অধিকাংশ ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে।

হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এর আগেও একাধিকবার রোগী, রোগীর স্বজন, নার্স এমনকি চিকিৎসক আহত হয়েছেন।হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হোসেন ইমাম দুর্ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড এবং কেবিন মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারা সে সময় কিছু মেরামতের কাজও করেছে। এ দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে রোববার আবারও লিখিতভাবে গণপূর্ত বিভাগকে জরুরি মেরামতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।