রাজশাহীতে জমি নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৪

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

রাজশাহী:- রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মনিরুল ইসলাম গান্দুর (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

নিহত মনিরুল ইসলাম গান্দু উপজেলার পাকড়ির গোরিসার আবদুল কুদ্দুসের ছেলে। এর আগে একই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- রাজশাহী মহানগরীর ভাটাপাড়া এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে সোহেল রানা ছোটন (৫০), গোদাগাড়ীর বড়গাছী কানুপাড়ার মৃত আলিম উদ্দীনের ছেলে মেহের আলী (৬৫) এবং তার ভাই নাইমুল (৬৮)।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় সোমবার রাতে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত সোহেল রানা ছোটনের ভাই মো. হৃদয় বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনের নামে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় পাকড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের তমির উদ্দীন শেখের ছেলে আশিকুর রহমান চাঁনকে (৫২)। এ মামলার অন্যতম আসামি হায়দার আলীসহ সাতজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধপূর্ণ জমিতে সোমবার ধান লাগাতে যান সেলিম রেজা গ্রুপের লোকজন। এতে বাধা দেয় প্রতিপক্ষ আশিকুর রহমান চাঁদের গ্রুপ। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সেলিম রেজা গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

সেখানে জরুরি বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়। আর আহত সাতজনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মনিরুল ইসলামের (৪৫) মৃত্যু হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয়জনের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সূত্র আরও জানায়, আশিকুর রহমান চাঁন ১৪ বিঘা জমি দখল নিতে হায়দার আলী, জালাল মেম্বার ও কামালসহ সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেন। সংঘর্ষে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামালায় চারজন কৃষক নিহত হন। নিহত কৃষকদের লাশ মঙ্গলবার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত সাত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।