অনাবৃষ্টিতে পানির অভাব, পুকুর ভাড়া নিয়ে পাটজাগ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

নাটোর জেলা প্রতিনিধি:- শ্রাবণ মাস চলছে, এই ভরা বর্ষায়েও বৃষ্টি নেই। অনাবৃষ্টির কারণে খাল ও বিল, ডোবা ও নালায় পানি না থাকায় খরতাপে পুড়ছে কৃষকের পাট।

বাধ্য হয়ে পাট পচাতে পুকুর ভাড়া নিচ্ছেন কৃষকেরা। চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের গুরুদাসপুরে এমন পরিস্থিতি চলছে।এ অঞ্চলের কৃষকরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে খরা দেখা দেওয়ায় পাট নিয়ে বিপাকে পরেছেন চাষীরা। সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত খরচে অন্যের পুকুর ভাড়া নিয়ে পাটজাগ দিতে হচ্ছে তাদের।কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ২৫০ হেক্টর কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এই মৌসুমে ১৪ হাজার চাষী তিন হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন। এর মধ্যে তোষা ও দেশিজাতের পাট রয়েছে। পাট নিয়ে বিপাকে পরা কৃষকদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ কৃষি অফিসের।সপ্তাহখানেক আগে গুরুদাসপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। অনেকেই সেই পানিতে পাট জাগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিন চার দিনের ব্যবধানে পানি নেমে গেছে। এতে জাগ দেওয়া পাট শুকিয়ে পড়াতে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। ফলে বাধ্য হয়ে মাছচাষের পুকুর ভাড়া নিয়ে পাটজাগ দিচ্ছেন। আবার অনেক চাষী বৃষ্টির আশায় পাট কেটে খেতেই রেখেছেন। অনেকে পাট কাটছেন না।খুবজিপুরের পাটচাষী দেলবর হোসেন ও সুজন আলী জানান, তারা বিলপাড়ের বাসিন্দা। বৃষ্টি না থাকায় বিলেও পানি নেই। তাই ডোবা ও পুকুর ভাড়া নিয়েছেন। একবিঘা জমির পাটজাগ দিতে পুকুর ভাড়া বাবদ দিতে হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা।তারা জানান, পাট চাষে বীজ, সার-কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। এর সঙ্গে পাটজাগের খরচ অতিরিক্ত লাগছে। অথচ প্রতি বিঘায় পাটের উৎপাদন হচ্ছে ৮ মণ হারে। যার বাজার মূল্য ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ পাট চাষে এবছর কোনো মতে উৎপাদন খরচ উঠলেও লাভবান হবেন না তারা।পুকুর মালিক নজিবর রহমান জানান, কৃষকদের অনুরোধে তিনি পাটজাগ দিতে পুকুর ভাড়া দিয়েছেন। ডিজেল চালিত সেচযন্ত্র ব্যবহার করে পুকুরে পানি সংরক্ষণ করছেন। একারণে তার ভাড়ার পরিমাণ বেশি নেওয়া হচ্ছে। তার পুকুরে পাটের ছয়টি পৃথক জাগ রয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ জানান, চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু পাট পচানোর পানি না থাকায় চাষীরা সমস্যায় রয়েছেন। তবে পাটজাগের জন্য পুকুর ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না।