দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। যারা ক্ষমতায় আসে তাদেরই চোখ পড়ে এই অফিসের ওপর।

যে সরকারই আসুক অবৈধ সুবিধা নেওয়ার জন্য নেতাদের কারনে একাধিকবার স্থানান্তর হয়েছে এই অফিসটি। যেখানেই স্থানান্তর হোক না কেন সেখানেই চলেছে সাধারন মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের মহা উৎসব।
সেসময় অফিসের বিভিন্ন পর্য্যায়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও স্থানীয় দালাল ও রাজনৈতিক নেতারা জড়িত ছিল অতিরিক্ত টাকা আদায়ের এই সিন্ডিকেটের সাথে। স্থানীয় রাজনৈতিক কয়েকজন নেতার ভয়ভীতির কারনে দলিল প্রতি অতিরিক্ত অর্থ আদায় হতো এই অফিসে।
এতে করে দলিল রেজিষ্ট্রি করতে আসা মানুষের খরচও বেড়ে যেতো দিগুন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাই পুরো অফিস নিয়ন্ত্রন করতো এক সময়। গত ২১সালে থেকে প্রায় ১বছর বন্ধ থাকার পরে আবার চালু হয় অফিস’টি। এখন প্রতি সপ্তাহের তিন দিন সোম, মঙ্গল ও বুধবার দৌলতপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে মূলত দলিল রেজিষ্ট্রির কার্য্যক্রম চলে। প্রতি সপ্তাহে কয়েকশ জমি দলিল রেজিষ্ট্রি হয়।
দুই ধরনের দলিল রেজিষ্ট্রি হয় এই অফিসে। একটি হেবা ও অন্যটি কবলা। হেবা ও কবলা দলিলের ক্ষেত্রে সরকারি ফি’র বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
বিগত সময় থেকেই এই জেলার মধ্যে সব চেয়ে বেশি দলিল রেজিষ্ট্রি হয় দৌলতপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে। বিগত দেড় বছর দালাল চক্রের হাত থেকে নিয়ন্ত্রন শূন্য হওয়ার পর কোন রকম ঘুষ বানিজ্য হয়না এই অফিসে সেটাই বলছে সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষ।
অফিসটি নিয়ন্ত্রন করছে এখন দলিল লেখক কমিটি। তবে কথা থাকে! সিন্ডিকেট থাকা সময়কালে যারা দলিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায় করতো এবং সেই টাকার ভাগ পেতো তারা আবার উঠেপড়ে লেগেছে আগের স্টাইলে অফিস চালানোর জন্য।
আর সে কারনেই অফিস’টি নিয়ে শুরু হয়েছে অপ-প্রচারের জল্পনা কল্পনা।প্রকাশ থাকে যে, দীর্ঘদিন অফিসটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আঃ কাঃ মঃ সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন সহ আওয়ামীলীগ নেতাদের প্রচেষ্টায় পুনরায় চালু হয়।
এতে করে এই উপজেলার সাধারন মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে। এদিকে দেড় বছর ধরে দলিল লেখক কমিটি’র সভাপতি হিসেবে দায়ীত্ব পালন করছেন একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা।
রেজিষ্ট্রি অফিস নিয়ে কিছু প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টালে অপ-প্রচার করার বিষয়ে দলিল লেখক কমিটি’র সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বিল্লাল হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি এবং এখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছি। আমার আগে যারা কমিটিতে ছিল তারা কি করেছে আমি বলতে পারবোনা।
তিনি আরোও বলেন, গত ৪ সেপ্টম্বর সাংবাদিক পরিচয়ে বেশ কিছু লোক আমার কাছে অনৈতিক সুবিধার দাবি করেন। কিন্তু আমি তাদের দাবী পুরন করতে পারিনি। কারন আমার কমিটি বাড়তি কোন টাকা দলিল লেখকদের কাছ থেকে উত্তোলন করেনা। তবে হ্যা মাঝে মাঝে পঞ্চাশ টাকা করে উঠানো হয় যেটা দলিল লেখকদের কল্যানের কারনে কিংবা কোন দলিল লেখক মৃত্যু বরন করলে তার অনুষ্ঠান করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তাই বলছি আমি থাকাকালীন এই অফিসে দলিল লেখকগন কোন অন্যায়ের সাথে জড়িত নয়। যারা এই সকল মিথ্যা অপ-প্রচার চালিয়েছেন কিংবা চালাচ্ছেন তাদের বলবো আপনারা এই মিথ্যা বানোয়াট বিষয় নিয়ে দলিল লেখকদের মানহানি করবেন না। সেইসাথে সকল অপ-প্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র দুঃখ্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এবিষয়ে দৌলতপুরের সাব-রেজিষ্ট্রার আনোয়ার হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনারা জানেন দীর্ঘদিন অফিসটিতে রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আমি যোগদান করে স্বচ্ছতার সাথে অফিসটি পরিচালনা করছি। কিন্তু স্থানীয় একটি মহল অবৈধ সুবিধা চেয়ে বঞ্চিত হওয়ার কারনে সাংবাদিকদের অসত্য তথ্য দিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অপপ্রচার করেছেন। যেটার কিঞ্চিত পরিমাণ সত্যতা নেই বলে তিনি জানান।







