বর্ষায় শিশুর ডায়াপার ব্যবহারে সতর্ক হোন: ত্বকের যত্নে যা জরুরি

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ লাইভস্টাইল ডেস্ক
বর্ষাকালে ভেজা আবহাওয়ার কারণে শিশুদের দীর্ঘক্ষণ ডায়াপার পরিয়ে রাখলে ত্বকের নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক মা-বাবাই তিন বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানকে ডায়াপার পরিয়ে রাখেন, যা টয়লেট প্রশিক্ষণে দেরি করার পাশাপাশি শিশুর অস্বস্তি ও ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি করে। বিশেষত স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ডায়াপার থেকে র‍্যাশ ও জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডায়াপার থেকে শিশুর ত্বকের সম্ভাব্য সমস্যা:
১. ফুসকুড়ি ও চুলকানি: শিশুর ত্বকে ধারাবাহিক ফুসকুড়ি এবং চুলকানির সমস্যা দেখা দিলে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন।

২. একজিমা: এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে র‍্যাশ, ফুসকুড়ি বা লালচে ফোঁড়ার মতো দেখতে একজিমা দেখা দিতে পারে।

৩. আর্টিকেডিয়া: দুই থেকে তিন বছরের শিশুদের ত্বকে এই ধরনের অ্যালার্জিক র‍্যাশ হতে পারে।

শিশুর ত্বকের যত্নে অভিভাবকদের করণীয়:

১. ডায়াপার নির্বাচন: ডায়াপার কেনার আগে এর কাপড় যথেষ্ট নরম ও সুতির কিনা, তা ভালোভাবে দেখে নিন। কোনো সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. নিয়মিত পরিবর্তন: শিশুকে ডায়াপার পরালে কিছুক্ষণ পরপর তা পরীক্ষা করুন। ভিজে গেলে দ্রুত পরিবর্তন করে দিন।

৩. রাত্রিবেলা ডায়াপার পরিহার: রাতভর শিশুকে একটানা ডায়াপার পরানো থেকে বিরত থাকুন। এতে শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে এবং ত্বকে ঘষা লেগে র‍্যাশ বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে, ত্বক লালচে ও ফুলে যেতে পারে।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শ: ডায়াপার থেকে সৃষ্ট র‍্যাশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডায়াপার ডার্মাটাইটিস’ বলা হয়। অনেক সময় এতে ছত্রাকের সংক্রমণও ঘটে। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ডায়াপারের জায়গায় লালচে দাগ দেখা যায়, যাকে ‘সেবোরিক ডার্মাটাইটিস’ বলে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

৫. শিশুর উপযোগী সাবান: শিশুর ত্বকে কখনোই বড়দের সাবান ব্যবহার করবেন না। শিশুদের জন্য কম ক্ষারযুক্ত এবং সঠিক পিএইচ ব্যালান্স (৫.৫) রয়েছে, এমন সাবান ব্যবহার করুন। তরল সাবান (লিকুইড সোপ) ব্যবহার করা আরও ভালো, কারণ এগুলোর পিএইচ ব্যালান্স শিশুদের ত্বকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়।

৬. নিয়মিত গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থান যেমন কুঁচকি, বাহুমূল এবং নিতম্বে প্রতিদিন সাবান দিন। সপ্তাহে দুই-তিন দিন সারা গায়ে ভালো করে সাবান মেখে শিশুকে গোসল করান। নবজাতক হলেও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি, কারণ এটি চর্মরোগ প্রতিরোধের অন্যতম সেরা উপায়।

৭. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: গরমের দেশে ঘন ক্রিমের বদলে বডি লোশন ব্যবহার করা ভালো। এটি শিশুর কোমল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৮. তেল মালিশ: গোসলের আগে শিশুদের তেল মালিশ করার ঐতিহ্য বহু পুরোনো। এটি পেশির গঠন ও রক্ত ​​চলাচলে সহায়তা করে। নারকেল তেল ও অলিভ তেল শিশুর ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী। বর্তমানে চিকিৎসকরা জন্মের পর থেকেই তেল ও সাবান ব্যবহার করে শিশুকে গোসল করানোর পরামর্শ দেন, কারণ পরিচ্ছন্নতা চর্মরোগ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।
বর্ষাকালে আপনার শিশুর ত্বকের যত্নে এই বিষয়গুলো মেনে চললে সে থাকবে সুস্থ ও হাসিখুশি। আপনার শিশুর ত্বকে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।