সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর থেকে শহিদুল ইসলাম দইচ বরখাস্ত, প্রেসক্লাব যশোরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংবাদকর্মী শহিদুল ইসলাম দইচকে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর তাদের সদস্য পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। একই সাথে, প্রেসক্লাব যশোর তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।
সোমবার (২১ জুলাই) সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের এক জরুরি সভায় শহিদুল ইসলাম দইচকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাকে আগামী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিসও জারি করা হয়েছে। ইউনিয়ন জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত শহিদুল ইসলাম দইচ সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না এবং সদস্যদের প্রাপ্য কোনো সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।
সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আকরামুজ্জামান। সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি বিএম আসাদ, যুগ্ম-সম্পাদক গালিব হাসান পিল্টু, কোষাধ্যক্ষ এএআর মশিউর, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলাম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য হানিফ ডাকুয়া।

প্রেসক্লাব যশোরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
এদিকে, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান এক বিবৃতিতে শহিদুল ইসলাম দইচকে প্রেসক্লাব যশোরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, শহিদুল ইসলাম দইচ কোনো অজুহাতে প্রেসক্লাব ক্যাম্পাস ব্যবহার করতে পারবেন না।
প্রেসক্লাব যশোর নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, নির্বাহী কমিটির একাধিক কর্মকর্তা-সদস্যসহ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণের দায়ে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসাথে শহিদুল ইসলাম দইচের ব্যক্তিগত কোনো আচরণ ও কর্মকাণ্ডের দায়ভার প্রেসক্লাবসহ যশোরের পেশাজীবী সাংবাদিক সমাজ গ্রহণ করবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

একাধিক অভিযোগ দায়ের
অন্যদিকে, শহিদুল ইসলাম দইচের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পৃথক তিনটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার আপত্তিকর আচরণ ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে অভিযোগগুলো করেছেন দৈনিক গ্রামের কাগজের বিশেষ প্রতিনিধি ও যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম, দৈনিক জনতার যশোর জেলা প্রতিনিধি, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ এবং প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য, দৈনিক লাখো কণ্ঠের যশোর ব্যুরো প্রধান মির্জা বদরুজ্জামান টুনু।
অভিযোগে তারা বলেছেন, শহিদুল ইসলাম দইচ ২০ জুলাই রাতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার থেকে তাদের ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। এছাড়া যশোর জেলা প্রশাসনের সোস্যাল গ্রুপ হোয়াটসঅ্যাপে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন শহিদুল ইসলাম দইচ। শুধু তারাই নন, ওই রাতে যশোরের আরও কয়েকজন সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট পদস্থ ও সম্মানিত ব্যক্তিকে ফোন করে অশালীন আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।