স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আজাহারুল ইসলাম বলেছেন, আমরা শুধু লেখাপড়া শিখছি, টাকা পয়সা কামাচ্ছি কিন্তু মানুষ হয়ে উঠতে পারিনি। চাকরিতে রুটিং ওয়ার্ক করছি কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে কর্তব্য পালন করছি না। ৩ বছর ধরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ জনগণের জন্যে বরাদ্দ টিউবওয়েল আটকে রেখেছে। ১০ হাজার টাকা নেয়ার সরকারি বিধান থাকলেও ক্ষেত্র বিশেষ ২৫ হাজার টাকা পর্ন্ত নিচ্ছে অথচ এই বর্ষা ও জলাবদ্ধতায় মানুষ খাবার পানি পাচ্ছে না। আবার কুকুর বিড়ালের একটি প্রতিষেধকের বাজার দাম ১২৫ টাকা অনেক দানশীল মানুষও লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে সহায়তা করতে পারে। তবুও যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ না নিয়ে বরাদ্দ নেই বরাদ্দ নেই বলে মাসের এই সভায় উপস্থাপন করে দায়িত্ব শেষ করছে। প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পানিবদ্ধতার কারণে এবার এখনও আমন রোপণ সম্ভব হয়নি। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ মিলে কয়েকটি পানি অপসারণের জায়গা ঠিক করলে এই সমস্যার সমাধান হতো। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ দায় এড়ানো তথ্য সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করে শুধু শুধু দিনটা নষ্ট করছে আর সরকারের অর্থে অপচয় করছে।
রোববার সকালে জেলা কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় এ সব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অনিয়ম , জনভোগান্তি ও অবহেলার চিত্র নিয়ে তীব্র সমালোচনাও করেন।
এ সময় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা এবং ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জেলার স্বাস্থ্য সেবার চিত্র তুলে ধরে জানান, প্রতি উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে সাপে কাটা রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য দুই ডোজ করে এন্টিভেনাম ওষুধ দেয়া হয়েছে । এন্টি ভেনাম দেয়ার সাথে সাথে অনেক রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় যেতে পারে এ সময় আইসিইউ দরকার যা অনেক হাসপাতালে নেই। তাই উচিৎ হবে ভালো ভাবে বেঁধে দ্রুত সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া। কারণ সাপে কাটা রোগী এক দেড় ঘণ্টা সময় পাওয়া যায়। হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলে সময় মতো চিকিৎসা ও আইসিইউ সাপোর্ট দেয়া যাবে। এ প্রসঙ্গে তারা আরও জানান, বেশিরভাগ সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে আনার আগে কবিরাজি চিকিৎসা করায়। ফলে তার হাসপাতালে চিকিৎসা শুরুর আগেই বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যায়।
এ সময় ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, গত মাসে হাসপাতাল থেকে এক হাজার ৯৭৬ জনকে ডগবাইট(কুকুর ও বিড়ালে কামড়ানোর) প্রতিষেধক দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই বিড়ালে কামড়ানোর কারণে। বর্তমানে হাসপাতালের এই প্রতিষেধকের সংকট রয়েছে।
এ সময় জেলা প্রশাসক ও সভার সভাপতি বিষয়টি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অনেক দানশীল আছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। তাদেরকে জানালে এ সব সমস্যা যেমন সমাধান হয়, তেমনি প্রতিমাসে ওষুধ কেনার জন্য যে টাকা পাওয়া যায় তা থেকেও কিছু কিছু করে এন্টিভেনাম সংগ্রহ করা যায়। এ সব ছোটোখাটো বিষয় নিজেরা সমাধান না করে বড় আকারে তুলে ধরা হয়। তিনি আরও বলেন, সারা বছর সাপে কাটা বা কুকুরে কামড়ানো রোগী আসে না কালে ভদ্রে ২ থেকে ১ জন আসে। যা আসে তাদেরকে যথাযথভাবে চিকিৎসা দিতে হবে। মানুষ যেনো চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা পুলিশের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) সুজন সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. রাশেদুল হক, জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল হক, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।




