জাল দলিলে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
গোলাম শেখের ৫ সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে, তিন মেয়ে। তাঁর মৃত্যুর পর তিন মেয়ের জমি জাল দলিলে আত্মসাত করেছেন দুই ছেলে। সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে গোলাম শেখের স্ত্রীকেও। ভাইয়েরা তাদের বোনের প্রাপ্য সম্পত্তি দেওয়ার আশ্বাসে শুধুই সময়ক্ষেপণ করেছে।

এক পর্যায়ে ২০১৩ সালে আদালতে মামলা করেন বঞ্চিতরা। দীর্ঘদিনেও আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতের দীর্ঘপ্রক্রিয়ায় মামলা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে দরিদ্র পরিবারের এই সদস্যরা। পৈত্রিক সম্পত্তি ন্যায্য দাবিতে সোমবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুর গ্রামের মৃত গোলাম শেখের মেয়ে রহিমা বেগম।

লিখিত বক্তব্যে রহিমা বেগম বলেন, আমার পিতা গোলাম শেখ সদর উপজেলার সীতারামপুর, বালিয়াডাঙ্গা ও হামিদপুর মৌজায় প্রায় ৬০ বিঘা জমির মালিক ছিলেন। তিনি মৃত্যুকালে ৬ জন ওয়ারেশ রেখে গেছেন। এরমধ্যে দুই পুত্র, তিন কন্যা ও এক স্ত্রী।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমার ভাই ১৯৮২ সালে আমাদের অজ্ঞাতে জাল দলিলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ জমি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। ১৯৯০ সালে আমাদের বোন ও মাকে বাদ দিয়ে নিজেদের নামে জমি রেকর্ড করে নেন। আমরা তিন বোন ও আমাদের মা সম্পূর্ণ বঞ্চিত হই। আমরা অত্যন্ত গরীব, স্বামীহীন, চিকিৎসার অভাবে আমার একটি বোন আজ মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। অথচ পৈত্রিক সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও আমরা সেই জমির একটি কণা মাটি ব্যবহার করতে পারছি না।

আমরা যখন আমাদের অধিকার দাবি করি, তখন আমাদের দুই ভাইয়ের ছেলেরা আমাদের হুমকি দেয়। আমার ভাইপো শওকত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত আছে। তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে হুমকি দেন ‘জমি দেব না, প্রয়োজনে লাশ ফেলব’। আমরা বাধ্য হয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করি। কিন্তু সেখানেও শওকত তার প্রভাব খাটিয়ে মামলার নথি গায়েব করে ফেলে। পরবর্তীতে দুদক কমিশনার ও বিচারকগণের হস্তক্ষেপে নথি উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হামিদপুর মৌজায় ১৪৭ শতক জমির উপর একটি জলাশয় (পুকুর) রয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি এই পুকুরটি আমাদের অজান্তে লাশ ওয়ারিশ বানিয়ে বিক্রির ষড়যন্ত্র চলছে। এ জমি বিক্রির চক্রান্ত চলছে গোপনে। যাতে আমরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত হই।’

কয়েকটি দাবি তুলে ধরে রহিমা বেগম বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি যথাযথভাবে সকল ওয়ারিশের মাঝে বন্টন করতে হবে। পুকুরটি কোনভাবেই বিক্রি করা না যায়, তার জন্য প্রশাসিনকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। শওকত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। গরীব, অসহায় মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার রক্ষা ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোলাম শেখের আরেক মেয়ে শহর ভানু, নাতি রাহাত আহমেদ, নাতনি নাসিমা বেগম।

মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে অভিযুক্ত লিয়াকত আলী তার ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে তোলা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলছে বলে ফোন কেটে দেন।