স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে কয়লা খনিবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্মরণে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা শাখা। মঙ্গলবার দুপুরে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট কয়লা খনিবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে ছয় দফা দাবির বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পার্টির বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলার সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা তসলিম উর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, জেলা কমিটির নেতা পলাশ বিশ্বাস, শহর কমিটির নেতা শেখ আলাউদ্দিন এবং হাবিবুর রহমান মোহন।
সমাবেশে তসলিম উর রহমান বলেন, ২০০৬ সালে তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানের নির্দেশে ফুলবাড়িতে আন্দোলনকারী নিরীহ কৃষক ও জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। সেই ঘটনায় চারজন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, মাহমুদুর রহমান এশিয়া এনার্জির সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে ফুলবাড়ির কয়লা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উত্তোলনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এই চুক্তিতে উত্তোলনকৃত কয়লার মাত্র ৬ শতাংশ বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল। বাকি ৯৪ শতাংশ পাওয়ার কথা ছিল এশিয়া এনার্জির। সেদিন শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার ও এশিয়া এনার্জি জনগণের ছয় দফা দাবি মেনে নেওয়ার চুক্তি করেছিল। কিন্তু ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দাবিগুলো আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারও সেই মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করেনি। যে কারণে আন্দোলনকারীরা এখনও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তসলিম উর রহমান তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, মজলুম কৃষক জনতার রক্তে হাত রাঙানো মাহমুদুর রহমান আজ নিজেকে মজলুম নেতা দাবি করেন। যা শুনে হাসি পায় এবং কান্নাও পায়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও ক্ষমতায় চিরস্থায়ী থাকার জন্য হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এই দলগুলো আসলে দেশবিরোধী এবং মজলুম কৃষক-জনতার বিরোধী। তিনি দেশপ্রেমিক সকল শক্তিকে এই দেশবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার এবং মজলুম কৃষক-শ্রমিক-জনতার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
সমাবেশের পর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করান কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটু।




