ভিপি নুরের উপর হামলার প্রতিবাদ: যশোরে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে যশোরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকালে শহরের থানার মোড় থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি দড়াটানা হয়ে হাটখোলা রোডে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘আপা গেছে যে পথে, জাপা যাবে সে পথে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত লাল, ওয়াকার কোন চ্যাটের বাল’, ‘নুরের হামলা কেন প্রশাসন জবাব দে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। বিক্ষোভে গণঅধিকার পরিষদের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও যোগ দেন।

এসময় বক্তারা বলেন, নুরুল হক নুরের উপর হামলা একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা প্রশাসনের সহযোগিতায় জাতীয় পার্টিকে ব্যবহার করে এ হামলা চালিয়েছে। এ হামলাকে তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে, তা ফ্যাসিবাদী আমলের পুনরাবৃত্তির শামিল। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের যোদ্ধা নুরের উপর সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলার দায় সেনাপ্রধান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিতে হবে।
হামলাকারীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা। পাশাপাশি জাতীয় পার্টিকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানান তারা। বক্তারা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না।


এসময় গণঅধিকার পরিষদের নেতারা জাতীয় পার্টিকে উদ্দেশ্য করে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। এর মধ্যে কার্যালয়ের সামনে থাকা সব ব্যানার-ফেস্টুন সরাতে হবে এবং তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সারাদেশে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বিক্ষোভে গণঅধিকার পরিষদের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল, যশোর জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আসাদুর রহমান সানি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির (মুরাদ), সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হোসেন, যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ আপন হোসেন মিলন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জে এম রাজু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মিয়া আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির যশোর জেলা শাখার সংগঠক নুরুজ্জামান, শুয়াইব হোসেন, আশালতাসহ বিভিনান অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

রাস্তা বন্ধ করে ঘন্টাব্যাপি বিক্ষোভ চলাকালে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।