স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
দুর্গাপূজা আসন্ন। আর মাত্র কিছুদিন পরেই শুরু হবে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব। সেই উপলক্ষে এখন পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বাঁশ, কাঠ, খড় আর মাটির ফ্রেমে প্রাণ পাচ্ছে দেব-দেবী। এবারও যশোর শহরের বেজপাড়া সার্বজনিন পূজা মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
প্রতিবছর এই সময়ে পূজা মণ্ডপগুলোতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। সরেজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরার আশাশুনি থেকে আসা শংকর মণ্ডল, জয়দেব মণ্ডলসহ প্রায় ৬ থেকে ৭ জন কারিগর দিন রাত কাজ করে চলেছেন। তাদের হাতের জাদুতে মাটি রূপ নিচ্ছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের মূর্তিতে।
শংকর মণ্ডল জানান, বৈশাখ মাস থেকেই তাদের কাজ শুরু হয়ে যায়। দিনে হাজার টাকা মজুরি পান তিনি। যা দিয়ে সারা বছরের সংসার খরচ চালান। তবে সবার মজুরি এক নয়। কেউ কেউ ৬ থেকে ৭ শত টাকাও পান।
তিনি আরও বলেন, এই কারিগরদের কাজের মাধ্যমেই তাদের পরিবারের জীবিকা চলে। গত বছর তারা প্রায় ৪০টি প্রতিমা বিক্রি করেছিলেন। এবারও এরই মধ্যে ৩৮টি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন। ইতিমধ্যে ১০টি তৈরিও হয়ে গেছে। ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার প্রতিমা তৈরি করেন তারা। তিনি আশা করছেন, এবারও ভালো সংখ্যক প্রতিমা বিক্রি হবে।
পূজা মণ্ডপে আসা ক্রেতা অর্ঘ্য কমল বসু জানান, তিনি ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি প্রতিমা কিনতে এসেছেন। এই বছরই প্রথম তাদের ‘ইউনিটি ক্লাব’ এ দুর্গাপূজা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
আরেক ক্রেতা রুদ্র ভৌমিক বলেন, যশোরের কারিগরদের তৈরি প্রতিমা খুব ভালো মানের হয়। তাই তারা প্রতিবছর বাইরের জেলা থেকেও এখানে প্রতিমা তৈরি করাতে আসেন।
যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ বলেন, এ বছর যশোরে ৬ শতাধিক পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। যদিও চূড়ান্ত তালিকা এখনো আসেনি।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তার দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই এবং সব ধরনের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে।




